“জীব সেবাই শিব সেবা”—বেদান্তের আলোয় মানবতার ডাক, শিলিগুড়িতে স্বামী সর্বাপ্রিয়ানন্দের অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা

নিজস্ব প্রতিবেদন :
“জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”—ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব-এর এই অমর বাণী এবং “ওঠো, জাগো, এবং লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত থেমো না”—স্বামী স্বামী বিবেকানন্দ-এর প্রেরণাদায়ক আহ্বান যেন একসূত্রে গাঁথা হয়ে ধ্বনিত হলো শিলিগুড়ির বুকে।

রামকৃষ্ণ মিশন, শিলিগুড়ির উদ্যোগে উত্তরবঙ্গ মারওয়াড়ি প্যালেসে আয়োজিত এক সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ মিলল বহু মানুষের। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত সন্ন্যাসী ও বিশিষ্ট বেদান্ত চিন্তাবিদ, নিউ ইয়র্কের বেদান্ত সোসাইটির অধ্যক্ষ স্বামী সর্বাপ্রিয়ানন্দ মহারাজ। তাঁর গভীর ও হৃদয়গ্রাহী আধ্যাত্মিক বক্তব্য শ্রোতাদের মননে এক বিশেষ আলোড়ন তোলে।

বর্তমান সময়ে যখন চারদিকে হিংসা, পরনিন্দা, অশান্তি ও নেতিবাচকতার আবহ, তখন স্বামীজির কণ্ঠে ধ্বনিত হলো ইতিবাচক মানসিকতার আহ্বান। তিনি ব্যাখ্যা করেন—কীভাবে আত্মপরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব, কেন জীবসেবা ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা আজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, এবং কেন সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করা প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের ভাবদর্শনের সারমর্ম, যা উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করে।এদিনের অনুষ্ঠানে শিলিগুড়ি মারওয়াড়ি প্যালেসে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব-ও। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করে।

উল্লেখ্য, স্বামী সর্বাপ্রিয়ানন্দ মহারাজ উত্তরবঙ্গ জুড়ে একাধিক আধ্যাত্মিক বক্তৃতায় অংশ নিচ্ছেন। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে তাঁর ধারাবাহিক বক্তব্য ভক্ত ও অনুরাগীদের জন্য এক অনন্য সুযোগ হয়ে উঠেছে—বেদান্তের গভীর দর্শন সরাসরি শ্রবণের এক বিরল প্রাপ্তি।

এই আধ্যাত্মিক পরিসরে যেন আবারও প্রতিধ্বনিত হলো ঠাকুরের বাণী—
“তোমরা ঈশ্বরকে খুঁজছ কোথায়? মানুষের মধ্যেই তাঁর প্রকাশ।”
আর স্বামী বিবেকানন্দের আহ্বান—
“নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, তবেই শক্তি জাগ্রত হবে।”
উত্তরবঙ্গের মাটিতে এই ভাবধারার প্রবাহ নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক ও আলোকিত সমাজ গঠনের পথ প্রশস্ত করছে।