নিজস্ব প্রতিবেদক :
৩১শে মার্চ মহাবীর জয়ন্তীকে সামনে রেখে সরকারি ছুটি পালিত হলো । জৈন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এই পবিত্র দিনে স্মরণ করা হয় মহাবীরকে—যিনি মানবজীবনের জন্য এক অনন্য দর্শন ও জীবনপথের দিশা দেখিয়েছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে মহাবীরের জন্ম হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৯ সালে, বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের বৈশালী জেলার কুণ্ডগ্রাম -এ।

তাঁর পিতার নাম ছিল সিদ্ধার্থ এবং মাতার নাম ত্রিশলা। রাজপরিবারে জন্ম হলেও তিনি খুব অল্প বয়সেই উপলব্ধি করেন যে, পার্থিব ভোগ-বিলাস মানুষের প্রকৃত মুক্তির পথ নয়।৩০ বছর বয়সে তিনি সংসার ত্যাগ করে কঠোর তপস্যা ও সাধনায় ব্রতী হন।
দীর্ঘ ১২ বছর কঠোর সাধনার পর তিনি ‘কেবল জ্ঞান’ লাভ করেন এবং পরবর্তীকালে জৈন ধর্মের ২৪তম ও শেষ তীর্থঙ্কর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।মহাবীরের দর্শনের মূল ভিত্তি পাঁচটি মহান নীতির ওপর— অহিংসা অর্থাৎ প্রাণীর প্রতি কোনো রকম হিংসা নয়,
সত্য অর্থাৎ সত্যবাদিতা,
অস্তেয় বা চুরি না করা,
ব্রহ্মচর্য বা সংযম,
অপরিগ্রহ বা অতিরিক্ত সম্পদের প্রতি আসক্তি ত্যাগ।
এই নীতিগুলি শুধু ধর্মীয় আদর্শ নয়, বরং মানবসমাজে শান্তি, সহাবস্থান ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলার এক চিরন্তন পথনির্দেশ।
মহাবীর জয়ন্তীর দিনে দেশজুড়ে জৈন মন্দিরে বিশেষ পূজা, অভিষেক, শোভাযাত্রা এবং দান-ধ্যানের আয়োজন করা হয়। এই দিনটি আমাদের শেখায়—সহমর্মিতা, সংযম এবং সত্যের পথেই নিহিত রয়েছে জীবনের প্রকৃত শান্তি।
মহাবীর জয়ন্তীর এই পবিত্র দিনে চলুন আমরা সবাই অহিংসা ও মানবতার পথ অনুসরণ করার অঙ্গীকার করি।
এই দিনটি জৈন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব।
মহাবীর জয়ন্তী কী?মহাবীর ছিলেন জৈন ধর্মের ২৪তম ও শেষ তীর্থঙ্কর, যিনি মানবজীবনের জন্য অহিংসা, সত্য ও সংযমের পথ দেখিয়েছিলেন।

