“যুদ্ধের অস্থিরতায় শান্তির খোঁজ—কবিতা ও সাহিত্যই পথ দেখাতে পারে”,বললেন পারভেজ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদন :
বিশ্বজুড়ে ক্রমশ বেড়ে চলেছে অস্থিরতা ও সংঘাতের আবহ। শুধু বাংলাদেশ নয়, রাশিয়া ইউক্রেন, পাকিস্তান আফগানিস্তান এমনকি ইরান ও ইজরায়েল —বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘর্ষ ও যুদ্ধের পরিস্থিতি আজ মানুষের মনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে এক ভিন্ন বার্তা দিলেন দুই বাংলার খ্যাতনামা বাচিক শিল্পী পারভেজ চৌধুরী ।

“খবরের ঘন্টা”-র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই হিংসা ও বিভাজনের সময়ে কবিতা ও সাহিত্যই পারে বিশ্বে শান্তির আবহ তৈরি করতে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রনেতাদেরও এখন প্রয়োজন সাহিত্যচর্চার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া, কারণ কবিতা মানুষের মনকে কোমল করে, ভাবনায় গভীরতা আনে এবং মানবিকতার বীজ বপন করে।

তিনি আরও বলেন, যে শিক্ষা মানুষকে দার্শনিক করে তুলতে পারে না, সেই শিক্ষা সমাজে বিভেদ ও হানাহানির পরিবেশ তৈরি করে। প্রকৃত শিক্ষা সেই যা মানুষকে চিন্তাশীল করে তোলে, আর এই কাজটি সবচেয়ে গভীরভাবে করে কবিতা ও সাহিত্য। তাঁর ভাষায়, “কবিতা মানুষের মনকে কাঁদামাটির মতো নরম করে দেয়”—আর সেই কোমলতাই শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। মহাকাশ বিজ্ঞান থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—মানুষের মন কি সেই অনুপাতে উন্নত হচ্ছে? মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের বিকাশ যদি না ঘটে, তবে সেই উন্নয়ন কতটা অর্থবহ—সেই প্রশ্নই তুললেন তিনি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে কবিতা ও সাহিত্যচর্চার নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও জানান পারভেজ চৌধুরী। বাচিক শিল্পের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, কবিতা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম—এমন বহু উদাহরণ তাঁর কাছে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চিকিৎসাজনিত কারণে সস্ত্রীক শিলিগুড়িতে অবস্থান করছেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। সেই সময়েই “খবরের ঘন্টা”-র সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর এই মূল্যবান ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ।এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক সাক্ষাৎকার দেখতে চোখ রাখুন “খবরের ঘন্টা”-র ডিজিটাল সোসাল মিডিয়ায় ।