নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন সিউড়ির তপোব্রতের— পরিশ্রমে গড়া সাফল্যে গর্বিত পরিবার ও বিদ্যালয়
ভয়েজ– উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার তৃতীয় সেমিস্টারে রাজ্যজুড়ে নজর কেড়েছে সিউড়ির চন্দ্রাবতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র তপোব্রত দাস। রাজ্যের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে নিজের পরিবার, বিদ্যালয় ও জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে এই মেধাবী ছাত্র।
সাফল্যের খবর জানাজানি হতেই তপোব্রতের বাড়িতে আনন্দের হাওয়া। খুশিতে মুখ উজ্জ্বল বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের। তপোব্রত জানিয়েছে,“ভালো ফলের আশা করেছিলাম, কিন্তু রাজ্যের দ্বিতীয় হব ভাবিনি কখনো। এই সাফল্য আমার শিক্ষকদের পরামর্শ আর পরিবারের অক্লান্ত সমর্থনের ফল।”
তপোব্রতের বাবা পেশায় শিক্ষক ও মা একজন নার্স। পরিবারের শিক্ষামূলক পরিবেশই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানায় সে। পড়াশোনার পাশাপাশি তপোব্রতের আগ্রহ চিত্রাঙ্কনে। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা তার।
তপোব্রত জানিয়েছে, প্রতিটি বিষয়ে তার আলাদা গৃহশিক্ষক ছিলেন। নিয়মিত টিউশন করার পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় চার ঘণ্টা নিজে বাড়িতে পড়াশোনা করত সে। পরিকল্পিত অধ্যয়ন আর নিয়মিত অনুশীলনই তার সাফল্যের চাবিকাঠি বলে মনে করে তপোব্রত।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তপোব্রতের এই অর্জন সমগ্র বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।
অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও আত্মবিশ্বাসের এক সুন্দর উদাহরণ তৈরি করেছে সিউড়ির এই তরুণ— তপোব্রত দাস।

নিজস্ব প্রতিবেদন:
নদীয়ার কৃষ্ণনগর যেন ভক্তির সাগরে ভাসছে। চাষাপাড়া বারোয়ারির প্রায় আড়াই শতাব্দী পুরনো জগদ্ধাত্রী পুজো — বুড়িমার আরাধনাকে কেন্দ্র করে ভিড় জমেছে লক্ষ লক্ষ ভক্তের। দেবীকে কয়েক কেজি সোনার গয়নায় সাজানো হয়েছে এ বছরও। ভক্তদের নিবেদিত দানে আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেবীর অলংকার। সংসারের মঙ্গল ও ব্যক্তিগত শুভ কামনায় দেবীর শরণাপন্ন হচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তবৃন্দ।
‘জাগ্রত বুড়িমা’ নামে খ্যাত এই দেবী শুধু কৃষ্ণনগর নয়, সারা রাজ্য জুড়েই ভক্তদের কাছে বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় পুজো অর্পণের জন্য। ভিড় সামাল দিতে কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ; নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন।
ইতিহাস বলছে, নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ই প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন করেন, শান্তিপুর থেকেই যার সূচনা। পরবর্তীতে রাজবাড়িতে দেবী মূর্তি স্থাপন করে পূজার আয়োজন শুরু হয়, যা আজ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। চন্দননগর আজ আলোকসজ্জায় বিখ্যাত হলেও, নদীয়ার পুজোয় রয়েছে এক গভীর সাবেকিয়ানার ছোঁয়া— সেই ঐতিহ্যেরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বুড়িমার পুজো।
২৫৩ বছরের পুরনো এই পূজা আজও সমান মর্যাদা ও ভক্তির সঙ্গে পালিত হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে বুড়িমার শোভাযাত্রা, যার প্রস্তুতিতে তৎপর প্রশাসন ও পূজা কমিটি।
পুজো উপলক্ষে কৃষ্ণনগর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জারি হয়েছে নো-এন্ট্রি নির্দেশ, আর প্রতিটি পূজামণ্ডপে মোতায়েন রয়েছে পুলিশের কড়া প্রহরা।
নদীয়ার শান্তিপুর থেকে কৃষ্ণনগর— সর্বত্রই এখন উৎসবের আবহ। বলা যায়, জগদ্ধাত্রী পূজাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলা জুড়ে নেমে এসেছে ভক্তি, ঐতিহ্য ও আনন্দের এক মহামিলন উৎসব।

