অনলাইন বাণিজ্যের চাপে বিপাকে শিলিগুড়ির ক্ষুদ্র ব্যবসা, পয়লা বৈশাখের আগে লড়াইয়ের ডাক খুচরা ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিলিগুড়ি, যা দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যনগরী হিসেবে পরিচিত, প্রতিদিনই ভিড় জমায় পাহাড়ি এলাকা, প্রতিবেশী রাজ্য এবং এমনকি প্রতিবেশী দেশ থেকেও আগত ক্রেতাদের উপস্থিতিতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে প্রতিযোগিতাও। কিন্তু এই বৃদ্ধির মধ্যেই এক গভীর সঙ্কটে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

অনলাইন কেনাকাটার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এবং শপিং মলের আধিপত্যের ফলে প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ টাকা শহরের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিলিগুড়ির ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিয়ে পয়লা বৈশাখের প্রাক্কালে আবারও সরব হয়েছেন বৃহত্তর শিলিগুড়ি খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায়মুহুরি।

তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে শিলিগুড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা মিলিয়ে মোট ১০৩টি ব্যবসায়ী সংগঠন এই সমিতির অধীনে কাজ করছে। সব মিলিয়ে নথিভুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। দিনকে দিন তা বাড়ছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাই বিপুল পরিমাণ বিক্রয় কর প্রদান করে রাজ্যের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের ব্যবসা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে।এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্যবসায়ী সংগঠন ইতিমধ্যেই নতুন কৌশল গ্রহণ করতে চলেছে। বিপ্লব রায়মুহুরি জানান, ছোট, মাঝারি এবং বড়—সব ধরনের ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে তাঁরাও এবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দেওয়া এবং হোম ডেলিভারি পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সামনে বাংলা নববর্ষ এবং হালখাতার সময়কে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা নতুন উদ্দীপনায় নিজেদের প্রস্তুত করছেন। বিপ্লববাবুর মতে, স্থানীয় দোকান থেকে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতারা বেশ কিছু বাড়তি সুবিধা পান—যেমন বাকিতে পণ্য কেনার সুযোগ, কিংবা পণ্য খারাপ বা সাইজ ঠিক না হলে সহজেই তা পরিবর্তন করার সুবিধা। যা অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে অনেক সময় জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে এবং শহরের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, স্থানীয় ব্যবসাকে সমর্থন করলেই টিকে থাকবে শিলিগুড়ির নিজস্ব অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক ঐতিহ্য।