নিজস্ব প্রতিবেদন; উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের লক্ষীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যুবক আহমেদ রেজা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেেন।
রক্তের কোনো জাত বা ধর্ম নেই— এই সত্যকে আরও একবার প্রমাণ করে তিনি দেখালেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় ধর্ম।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৫ বছরের পদ্মা রায়, যাঁর অবিরাম রক্তক্ষরণে অবস্থা সংকটজনক হয়ে উঠেছিল। এই খবর পৌঁছতেই সমাজকর্মী বাপন দাস সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন আহমেদ রেজার সঙ্গে। আহমেদ জীবনে এই প্রথমবার রক্তদান করতে এগিয়ে আসেন।
তিনি জানতেন না, কার জন্য রক্ত দিচ্ছেন। পরে যখন জানতে পারেন রক্তের প্রয়োজন একজন হিন্দু মহিলার জন্য, তখন শান্তভাবে বলেন—
“মানুষই মানুষের জন্য। হিন্দু-মুসলিম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একজন মানুষকে, বিশেষত একজন মাকে বাঁচাতে পারছি— এর চেয়ে বড় কিছু নেই।”
সমাজকর্মী বাপন দাস জানান,
“রবিবার রাত থেকে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পদ্মা রায়। অনেক চেষ্টার পরও রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না। আমার বার্তা পেয়ে আহমেদ ১৪০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে পৌঁছে রক্ত দিয়ে ফিরে আসে।”
তিনি আরও জানান,
“রবিবারই ইসলামপুর হাসপাতালে রিতা চৌহানের জন্য সায়েন্তন দাসকে নেগেটিভ রক্ত দিতে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার ঘোষপুকুরের প্রেম জয়সওয়ালের জন্য এবি নেগেটিভ রক্ত লাগবে— সেটিও আমরা সংগ্রহের চেষ্টা করছি।”
মানবিকতার এই উদ্যোগে স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসা ছড়িয়েছে।
আহমেদ রেজার এই উদাহরণ সমাজে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা আরও একবার উজ্জ্বল করল।

