নিজস্ব প্রতিবেদন :
উত্তরবঙ্গের প্রাচীন জনজাতি ধীমাল সম্প্রদায়ের হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতিকে নতুন করে তুলে ধরল শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ির কেটুগাবুরজোত। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি টানা তিনদিন ধরে সেখানে আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য ধীমাল উৎসব, যার মূল আকর্ষণ ছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এই বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম পথপ্রদর্শক, ধীমাল সম্প্রদায়ের প্রবীণ প্রতিনিধি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গর্জেন কুমার মল্লিক জানান, ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাওয়া এই জনজাতির সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠানটি।
উৎসবের অংশ হিসেবে তরুণ প্রজন্মের জন্য ধীমাল নৃত্যের প্রশিক্ষণ শিবিরও অনুষ্ঠিত হয়, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহের সঞ্চার করে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ
ডঃ হৈমন্তী চট্টোপাধ্যায়।
তিনি ধীমাল সংস্কৃতির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে এ ধরনের উদ্যোগকে ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মত প্রকাশ করেন।খড়গপুর সরস্বতী কলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব স্থানীয় ধীমাল সমাজের মধ্যে এক নতুন আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।
বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ পেলে তারাই পারে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে আবারও জীবন্ত করে তুলতে।এই উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং উত্তরবঙ্গের বৈচিত্র্যময় লোকঐতিহ্য সংরক্ষণের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

