নিজস্ব প্রতিবেদন:
রাতটা যেন উৎসবের মতো। ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের প্রথম বিশ্বকাপ জয় ঘিরে গোটা দেশ যখন আনন্দে মেতে উঠেছে, তখন শিলিগুড়ির উৎসব যেন আরও একধাপ উঁচুতে। কারণ, এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়িকা শহরেরই মেয়ে — বাংলার গর্ব, রিচা ঘোষ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রোমাঞ্চকর ফাইনালে রিচার ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে দারুণ ৩৪ রান। তাঁর ঝোড়ো ইনিংসেই ভারতের জয়ের ভিত্তি মজবুত হয়। শুধু তাই নয়, গোটা টুর্নামেন্টে ১২টি ছক্কা মেরে রিচা গড়েছেন এক অভাবনীয় রেকর্ড — মহিলা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক ছক্কার মালিক এখন তিনিই।
ম্যাচ শেষ হতেই শিলিগুড়ির রাস্তায় নামে উল্লাসের ঢল। বাঘাযতীন পার্ক, সেবক মোড়, হিলকার্ট রোড—সব জায়গাতেই বাজি, ঢাকের আওয়াজ আর স্লোগানে মুখর শহর। রিচার বাড়ির সামনে তখন মানুষের ভিড়, মুখে একটাই কথা—“রিচা, তমি শিলিগুড়ির নয়, সমগ্র বাংলার গর্ব!”
রিচার প্রথম কোচ তপন ভাওয়াল স্মৃতিচারণ করে বলেন,“ছোটবেলা থেকেই ওর মধ্যে দেখেছিলাম এক অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা। দেশের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্নই ওকে প্রতিদিন অনুশীলনে টেনে আনত। আজ সেই জেদই ওকে ইতিহাসের পাতায় নিয়ে গেল।”
বাংলা মহিলা দলের প্রাক্তন কোচ শিবশঙ্কর পাল জানান, “রিচা যখন প্রথম নেটে নেমেছিল, ওর ব্যাটিংয়ে যে শক্তি ছিল, তাতেই বুঝেছিলাম—এই মেয়েটি একদিন বড় মঞ্চে নাম লিখবে।”
ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রিচা বলেন, “এই জয় আমাদের দলের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। প্রত্যেকে একে অপরকে বিশ্বাস করেছিল, আর সেই বিশ্বাসই আজ আমাদের শক্তি।”
ধোনির অনুরাগী রিচা একসময় পেসার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, পরে ‘ক্যাপ্টেন কুল’-এর প্রেরণায় হয়ে ওঠেন উইকেটকিপার-ব্যাটার।
আজ তাঁকেই বলা হচ্ছে ‘লেডি ধোনি’—ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন মুখ, নতুন ভরসা।শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদের ক্রিকেট সচিব ভাস্কর মজুমদার বলেন, “রিচার এই অর্জন শুধু শিলিগুড়ির নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের সাফল্য। ও আজ নতুন ইতিহাস গড়েছে।”যা করতে পারেননি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বা ঝুলন গোস্বামী, তা করে দেখালেন রিচা ঘোষ।
বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রথম বাঙালি ক্রিকেটার হিসেবে তিনি বিশ্বকাপ জয়ের গর্ব এনে দিলেন গোটা দেশকে।
আজ শিলিগুড়ির আকাশে একটাই নাম প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—
“রিচা ঘোষ — বাংলার প্রথম বিশ্বকাপজয়ী কন্যা, ভারতের গর্ব।”

