শিলিগুড়ির কন্যা রিচার বিশ্বজয় — উচ্ছ্বাসে মুখর গোটা শহর

নিজস্ব প্রতিবেদন:
রিচা ঘোষ — নামটি আজ শিলিগুড়ির গর্ব, বাংলার অহংকার। রবিবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের ঐতিহাসিক জয় ঘোষিত হতেই আনন্দে ফেটে পড়ল শহরবাসী। শহরের প্রতিটি কোণেই একটাই আওয়াজ “রিচা, তুমি আমাদের গর্ব!”

ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই শিলিগুড়ি যেন উৎসবে মেতে ওঠে। হিলকার্ট রোড, বাঘাযতীন পার্ক, হাকিমপাড়া—প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে উল্লাসের ঢেউ। কেউ বাজি ফাটাচ্ছেন, কেউ ঢাকের তালে নাচছেন, কেউ আবার হাতে পতাকা নিয়ে উল্লাসে মত্ত। রিচার বাড়ির সামনে তখন উপচে পড়া ভিড়, চারিদিকে উৎসবের আবহ।

রিচার প্রতিবেশীরা আবেগভরে বলেন, “ছোট থেকেই দেখেছি রিচার খেলার প্রতি এক অদম্য ভালোবাসা। পরিশ্রম, শৃঙ্খলা আর আত্মবিশ্বাসই ওর মূল শক্তি। আজ সে শুধু আমাদের পাড়ার নয়, সমগ্র দেশের গর্ব।”
উত্তরবঙ্গজুড়ে রিচার সাফল্যে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের রেশ। স্কুল-কলেজ, ক্লাব, মহিলা সংগঠন—সবাই যেন একসূত্রে বাঁধা উৎসবে। কেউ নাচে, কেউ গানে, কেউ বা তেরঙ্গা হাতে রিচার জয়গান গাইছে। হাকিমপাড়ার মোড়ে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ, সেখানে রাতভর গানবাজনায় মুখর থেকেছে মানুষ।

ভিড় সামলাতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও আনন্দের ঢেউ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। রিচার বন্ধুরা জানান, “আজ শিলিগুড়ির প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি মানুষ গর্বে ভরপুর। মনে হচ্ছে যেন শহরটাই বিশ্বজয় করেছে।”
সব মিলিয়ে, ভারতের জয়ের সঙ্গে সঙ্গে শিলিগুড়িও পেয়েছে তার নিজস্ব সোনার জয়। রিচা ঘোষ আজ শুধু এক বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার নন — তিনি শিলিগুড়ির প্রতিটি হৃদয়ের স্পন্দন।