নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গণিত শিক্ষাকে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে নর্থ বেঙ্গল এডুকেশনাল ট্রাস্টের উদ্যোগে এবং এসোসিয়েশন ফর ইমপ্রুভমেন্ট অফ ম্যাথমেটিক্স লার্নিং-এর ব্যবস্থাপনায়, পূর্ণিমা বসু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ এওয়ার্ডিং গ্রান্ড সেরিমনি–২০২৫ ।
রবিবার, ৪ঠা জানুয়ারি ২০২৬, শিলিগুড়ির শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মিত্র সম্মিলনী হলে এই বর্ণাঢ্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের ৯টি জেলার ৯ জন শ্রেষ্ঠ গণিত শিক্ষকশিক্ষিকা, উত্তরবঙ্গের ৪টি শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি শ্রেষ্ঠ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১ জন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক-কে উত্তরীয় পরিয়ে, মানপত্র, গাছের চারা ও “পূর্ণিমা বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।
এই সম্মাননা প্রদান করেন পূর্ণিমা বসু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নীতিশ বসু এবং ট্রাস্টের উপদেষ্টা তথা খবরের ঘন্টা সোশ্যাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক বাপি ঘোষ।
এছাড়াও উত্তরবঙ্গের ৯টি জেলার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে ২৭৩ জন কৃতি ছাত্রছাত্রীকে বিশেষ মেধা পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নীতিশ বসু এই শুভ সূচনা করেন। পরে তিনি অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে নর্থ বেঙ্গল এডুকেশনাল ট্রাস্টের একটি স্মরক পুস্তিকার আবরন উন্মোচন করেন, যা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অভিভাবক-অভিভাবিকাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য উত্তরবঙ্গের চারজন বিশিষ্ট গুণীজনকে এদিন সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে শিলিগুড়ির বিশিষ্ট সমাজকর্মী নীতিশ বসু-কে “ব্যতিক্রমী সমাজকর্মী” হিসেবে গ্রেটেস্ট এপ্রিসিয়েশন অনার প্রদান করে সম্মানিত করেন নর্থ বেঙ্গল এডুকেশনাল ট্রাস্টের সম্পাদক স্বপনেন্দু নন্দি।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও প্রধান বক্তা হিসেবে সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখতে গিয়ে নীতিশ বসু বলেন, বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি গণিতসহ অধীত শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গ জুড়ে এমন একটি শিক্ষা-ভিত্তিক কর্মসূচি সংগঠিত করা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি এই উদ্যোগের জন্য নর্থ বেঙ্গল এডুকেশনাল ট্রাস্টের সম্পাদক স্বপনেন্দু নন্দি, সভাপতি আশীষ পাল এবং ট্রাস্টের সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।একজন বিশিষ্ট সমাজকর্মীর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মন্তব্য করেন—শিলিগুড়ি-কেন্দ্রিক একটি নবীন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে এমন একটি কষ্টসাধ্য ও দুরুহ কর্মসূচি গ্রহণ করে তা
সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা শিক্ষকসমাজ ও ছাত্রসমাজ শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন, যা পরোক্ষভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেরই নামান্তর। আগামী দিনে এই শিক্ষামূলক কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হোক—এই কামনা জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
উল্লেখ্য, নর্থবেঙ্গল এডুকেশনাল ট্রাস্ট আজ উত্তরবঙ্গের শিক্ষা জগতে এক সুপরিচিত নাম। বিগত বছরগুলির ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে উত্তরবঙ্গ জুড়ে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য গণিতের মেধা মূল্যায়নের আয়োজন করা হয়।
এই মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয় ২রা নভেম্বর ২০২৫, এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ৩০শে নভেম্বর ২০২৫। সেই মূল্যায়নের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানই অনুষ্ঠিত হলো ৪ঠা জানুয়ারি ২০২৬, শিলিগুড়ির মিত্র সম্মিলনী হলে।ট্রাস্টের সম্পাদক স্বপনেন্দু নন্দির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবছর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী এই গণিত মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বরপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ স্তরে প্রতিটি শ্রেণীর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।
তিনি জানান, গণিতের মতো তথাকথিত দুরুহ বিষয়ে উত্তরবঙ্গের মতো পিছিয়ে পড়া এলাকা থেকে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ তাঁদের আশাবাদী করে তুলেছে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় অন্তত শিলিগুড়িতে একটি বিদ্যালয় স্তরের গণিত গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন এবং এই বিষয়ে ট্রাস্ট সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।এই মঞ্চ থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলা ভিত্তিক বেস্ট ম্যাথমেটিক্স টিচার, বেস্ট প্রাইমারি স্কুল, বেস্ট হাই স্কুল এবং বেস্ট প্রিন্সিপ্যাল নির্বাচন করে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নকশালবাড়ি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ডঃ সবিতা মিশ্র, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী নীতিশ বসু, লায়ন সুভাষ রায় এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী আইনজীবী সঞ্জীব চক্রবর্তী।অনুষ্ঠানের শুরুতে দার্জিলিং পাবলিক স্কুলের শিক্ষক অভিজিৎ বাগচী গণিত বিষয়ক মুকাভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেন।
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আশীষ পাল জানান, এবছর উত্তরবঙ্গের প্রায় দুই শতাধিক বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি মাধ্যম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালে এই মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে ১১ই অক্টোবর, রবিবার, এবং বিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে ৩১শে মে ২০২৬-এর মধ্যে।

