নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটাল যুগে দ্রুত বিস্তার লাভ করা অনলাইন বাণিজ্যের প্রভাবে শহরের খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্রমশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে পাড়া-ভিত্তিক বাজারগুলিতে মুদিখানা দোকান ও বস্ত্র ব্যবসায়ীরা বিক্রি কমে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বর্তমানে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে অনেকেই মাসিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অনলাইনের মাধ্যমেই কিনে নিচ্ছেন। সঙ্গে থাকছে বাড়িতে বসেই ডেলিভারির সুবিধা। ফলে স্থানীয় দোকানগুলিতে ক্রেতা সমাগম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অন্যদিকে, চৈত্র সেল ও পয়লা বৈশাখকে ঘিরে যে সময়টিতে বস্ত্র ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকার কথা, সেই সময়েও অনেক দোকানে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া ব্যবসায়ী সমিতি নতুন পথ খুঁজতে উদ্যোগী হয়েছে।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনলাইন বাণিজ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একত্রিত করে একটি বিকল্প অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে।বৃহস্পতিবার সমিতির সভাপতি দেবশঙ্কর সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুজিত ঘোষ (বাপি), চেয়ারম্যান ভজন পাল এবং কোষাধ্যক্ষ স্মরজিৎ সাহাসহ অন্যান্য সদস্যরা জানান, অনলাইন ব্যবসার প্রসারে ছোট খুচরা ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েছেন।
তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হায়দরপাড়া বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের নিয়েই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আলোচনা চলছে।
সমিতির সদস্যরা সাধারণ মানুষের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, খুচরা ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বহু মানুষের জীবিকা সংকটে পড়বে, কারণ অসংখ্য পরিবার সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি, স্থানীয় দোকানগুলির কিছু বিশেষ সুবিধার কথাও তাঁরা তুলে ধরেন—
যেমন পণ্য পছন্দ না হলে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সুযোগ, কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী বাকিতে কেনাকাটার সুবিধা, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সচরাচর পাওয়া যায় না।এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বাজারকে টিকিয়ে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ এবং ক্রেতাদের সচেতন ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছেন ব্যবসায়ী মহল।

