কন্যাদান মহাদান: অসহায় কন্যার বিয়েতে মানবিক হাত বাড়াল জি এইচ আর পিস ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদন :
শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “কন্যাদান মহাদান”— অর্থাৎ কন্যার বিবাহে সহায়তা করা এক মহৎ ও পুণ্যময় কাজ। হিতোপদেশে উল্লেখ আছে, “পরোপকারায় পুণ্যায়, পাপায় পরপীড়নম্”— অন্যের উপকারেই পুণ্য, আর অন্যকে কষ্ট দেওয়াই পাপ। স্বামী বিবেকানন্দও বলেছেন, “নর সেবা নারায়ণ সেবা”। এই মানবিক দর্শনই যেন বাস্তবে রূপ পেল শিলিগুড়ির এক দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনায়।

শিলিগুড়ি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের জংশন কুলিপাড়া এলাকার এক অসহায় মেয়ের বিয়ে ঘিরে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। মেয়েটির বাবা নেই, মা রীনা বাশফোড় অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালান। হরিজন সম্প্রদায়ের এই পিছিয়ে পড়া পরিবারের পক্ষে বিয়ের আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। অথচ বিয়ের দিন ঠিক হয়েছিল ৫ ফেব্রুয়ারি।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জি এইচ আর পিস ফাউন্ডেশন। সংস্থার রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিন্দু শর্মা, সঙ্গে পম্পা রায়, তানিয়া হালদার ও শর্মিলা প্রধান— সকলে মিলে বুধবার ওই পরিবারের হাতে তুলে দেন শাড়ি, বিয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং নগদ অর্থ সহায়তা হিসেবে।

এই সহযোগিতায় মুখে হাসি ফুটেছে মেয়েটির পরিবারে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার আশা জেগেছে নতুন করে।বিশিষ্ট সমাজসেবী বিন্দু শর্মা জানান,
“আমাদের সংগঠনের সব সদস্য মিলে এই শুভ কাজ সফল করতে সহযোগিতা করেছেন। সমাজে এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের পাশে দাঁড়ানো

আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”সমাজে এখনও যে মানবিকতা বেঁচে আছে, এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কারও কাছে সামান্য সহায়তাই অন্য কারও জীবনে এনে দিতে পারে নতুন আলো, নতুন শুরু।