নেশা যখন চাষবাস: ছাদের বাগানেই নিজের রঙের হোলি খেলেন বাপি সাহা

নিজস্ব প্রতিবেদন :
কারও নেশা মদ, কারও ধূমপান, আবার কেউ ডুবে থাকেন জুয়া বা অন্য ক্ষতিকর আসক্তিতে। কিন্তু শিলিগুড়ির এক ব্যবসায়ীর নেশা একেবারেই আলাদা—তিনি আসক্ত গাছপালা আর চাষবাসে।শিলিগুড়ি বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাপি সাহা নিজের বাড়ির ছাদকেই বানিয়েছেন এক টুকরো সবুজ পৃথিবী। সেখানে তিনি ফল, ফুল ও সব্জির চাষ করেন অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়ে।

এই বাগানই তাঁর অবসর, তাঁর আনন্দ, তাঁর মানসিক শান্তির জায়গা। অনেক সময় গাছের পরিচর্যা করতে করতে রাত গভীর হয়ে যায়, তবুও ক্লান্তি নয়—বরং তিনি যেন আরও প্রাণশক্তি পান। তাঁর কথায়,“গাছের কাছে থাকলে মন ভালো থাকে, শরীরও যেন বাড়তি অক্সিজেন পায়।”

কিছুদিন আগে তাঁর ছাদের বাগানে বড় সমস্যা দেখা দেয়। লাউ গাছগুলো এক অজানা পোকার আক্রমণে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। পরামর্শ পেয়ে তিনি ওষুধ প্রয়োগ করেন। ফল মিলল দ্রুত—পোকাগুলো নষ্ট হলো, গাছ আবার সুস্থ হলো, আর এখন সেই গাছেই ঝুলছে তাজা লাউ। এই সাফল্যে স্বভাবতই খুশি তিনি।

শুধু লাউ নয়, অন্য গাছেও রোগ দেখা দিলে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয় তাঁকে। এই শখ বা নেশার পেছনে বছরে খরচ হয় অন্তত ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু তাতে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ এই বাগানই তাঁর মানসিক প্রশান্তির জায়গা।
ছাদের সেই বাগানে এখন ফলছে আতা, ডালিম, আম, কামরাঙা-সহ নানা ফল।

সম্প্রতি তিনি শুরু করেছেন এক অভিনব চাষ—কালো টম্যাটো। সবটাই তিনি করেন নিজের আনন্দ আর সৃজনশীল তৃপ্তির জন্য।দোল বা হোলি এলে যখন সবাই রঙ নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন, তখন বাপি সাহার উৎসব একটু অন্যরকম। তাঁর কাছে হোলি মানে রঙিন ফুলের গাছের যত্ন নেওয়া। বিভিন্ন রঙের ফুলের মাঝেই তিনি খুঁজে পান নিজের ‘রঙের উৎসব’।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়—এই পুরো বাগানে তিনি ব্যবহার করেন শুধুমাত্র জৈব সার। কোনো রাসায়নিক বা কেমিক্যাল তাঁর গাছে জায়গা পায় না।শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ায় তাঁর বাড়ির এই অনন্য ছাদবাগান সত্যিই দেখার মতো—প্রকৃতি, ধৈর্য আর ভালোবাসা দিয়ে গড়া এক সবুজ স্বপ্ন।