রাস পূর্ণিমায় মহানন্দার তীরে দীপদান ও আরতি — প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধায় আলোকিত শিলিগুড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদন:
শিলিগুড়ির মহানন্দা নদীর তীরে বুধবার সন্ধ্যায় এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহরবাসী। একদিকে নদীর বুকে ভেসে চলেছে শত শত প্রদীপ, অন্যদিকে গঙ্গা ও মহানন্দার উদ্দেশে ভক্তিময় আরতি— এক শান্ত, পবিত্র পরিবেশে মিলেমিশে গেল বিশ্বাস ও পরিবেশপ্রেমের বার্তা।

প্রতি পূর্ণিমাতেই “নমামি গঙ্গে” ও “মহানন্দা বাঁচাও কমিটি” উদ্যোগ নেয় এই মহানন্দা আরতি অনুষ্ঠানের, আর এবারের রাস পূর্ণিমাও তার ব্যতিক্রম নয়। পরিবেশপ্রেমী ও সমাজসেবী জ্যোৎস্না আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে নিয়ে এই আধ্যাত্মিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “নদী শুধু জল নয়, সে আমাদের জীবনের উৎস, তাই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের কর্তব্য।”

অনেকেই এদিন দীপদান কর্মসূচিতেও অংশ নেন— কেউ প্রার্থনা করেছেন পরিবারের মঙ্গল কামনায়, কেউ আবার প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশে।

বেদের ভাষায়, নদীকে বলা হয়েছে “আপঃ দেবীঃ” — অর্থাৎ দেবীরূপা জলধারা, যা জীবনের ধারক ও পবিত্রতার প্রতীক। ঋগ্বেদে বলা হয়েছে, “আপঃ শুদ্ধয়তু মম” — “হে জল, তুমি আমাকে পরিশুদ্ধ করো।” এই ভাবনাই যেন নতুন করে ফিরে আসে মহানন্দার তীরে দীপের আলোয়।

ভগবদ্ গীতার একাদশ অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “আপ্সু চ পরমোত্সবঃ” — অর্থাৎ জলের মধ্যে আমিই উৎসবের পরম আনন্দ। সেই ঐশ্বরিক আনন্দকেই অনুভব করলেন উপস্থিত সকলেই, যখন শত শত দীপ নদীর স্রোতে মিলিয়ে গেল, আর মিশে গেল প্রার্থনার সুরে প্রকৃতির প্রতি মানবিক আহ্বান।

রাস পূর্ণিমার এই দিনে মহানন্দার তীরে দীপদান ও আরতির মাধ্যমে শিলিগুড়ি জানাল এক সুন্দর বার্তা — ভক্তি, পরিবেশ ও মানবতার মিলিত রূপই প্রকৃত পূজা।