নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে দার্জিলিং জেলায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা শাসক ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি শক্তিশালী ও বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে, যাতে নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধ কার্যকলাপ রোধে ধারাবাহিক নজরদারি ও সমন্বিত অভিযানের ফলে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৭ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত জেলায় মোট ৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ৬টি কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক বা বোমা উদ্ধারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। একইসঙ্গে, জেলায় নথিভুক্ত ১০০৫টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৮০৩টি প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে।
জেলার মোট ১৪৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টি ‘ভালনারেবল’ এবং ১৫৭টি ‘ক্রিটিক্যাল’ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ১৭৬টি স্পর্শকাতর গ্রাম বা হামলেট চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১০৫ জন সম্ভাব্য দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১১৯টি ভোটকেন্দ্র এলাকায় দুর্বল পরিবার ও ব্যক্তিদের সনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে মোট ৪৯২ জন ঝুঁকিপূর্ণ ভোটার রয়েছেন।
আইনগত ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৭২২টি নন-বেলেবল ওয়ারেন্ট (NBW) কার্যকর করা হয়েছে, এবং ৭৯৪টি এখনও মুলতুবি রয়েছে। এছাড়া BNSS-এর ১২৬ ধারায় ৩৬১টি এবং ১২৯ ধারায় ১১টি মামলা রুজু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করে রুট মার্চ পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়াতে ধারাবাহিক ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ (CBM) চালানো হচ্ছে।
c-VIGIL অ্যাপের মাধ্যমে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।এখন পর্যন্ত মোট ৫২টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে সর্বাধিক ৩৫টি অভিযোগ মেটানো হয়েছে।নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে জেলায় মোট ৩১,৬৯৬টি পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৩,১১৯টি সরকারি এবং ৮,৫৭৭টি বেসরকারি সম্পত্তি থেকে সরানো হয়েছে।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি:
নির্বাচনী খরচ নিয়ন্ত্রণে একাধিক দপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এক্সাইজ, পুলিশ, আয়কর, কাস্টমস, এসএসবি ও জিএসটি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।এখন পর্যন্ত জেলায় ৩২টি নাকা পয়েন্ট ও ৪৯টি ফ্লাইং স্কোয়াড (FST) সক্রিয় রয়েছে।
অভিযানে মোট ৭.৭৪ লক্ষ টাকা নগদ, ১৯৮.৭৩ লক্ষ টাকার মদ এবং ৩৬৬.৮০ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।জেলা নির্বাচনী আধিকারিক সকল ভোটারদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়েছেন, তারা যেন কোনো প্রকার প্রলোভন, ভয় বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে, শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।প্রশাসনের দাবি, সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দার্জিলিং জেলায় একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

