শিলিগুড়িতে ইগনুর ৩৯তম সমাবর্তন: ‘যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি’ দর্শনে মুক্ত শিক্ষার জয়গান

নিজস্ব প্রতিবেদন : “যতদিন বাঁচি, ততদিন শিখি”—শ্রীরামকৃষ্ণের এই কালজয়ী দর্শন এবং রবীন্দ্রনাথের জ্ঞানতৃষ্ণাকে পাথেয় করে মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত হলো ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (IGNOU)-এর ৩৯তম আঞ্চলিক সমাবর্তন। শিলিগুড়ির সেলেসিয়ান কলেজের ‘মারেঙ্গো হল’-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার প্রকৃত অর্থ ও ব্যাপ্তি নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্টজনেরা।

মঙ্গলবার দিল্লির মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আঞ্চলিক সমাবর্তন সম্পন্ন হয়। দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন এবং উপরাজ্যপাল তরণজিৎ সিং সান্ধু।

শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে ‘সম্মানীয় অতিথি’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত বসু। তিনি তাঁর ভাষণে শ্রীরামকৃষ্ণের “যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি” এবং রবীন্দ্রনাথের “বিপুলা এই পৃথিবীর কতটুকু জানি” পঙ্‌ক্তির অবতারণা করে বলেন, জ্ঞান অসীম এবং মানুষের শেখার কোনো শেষ নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, যারা মনে করেন ‘সব জানি’, তাদের শেখার দরজা বন্ধ হয়ে যায়; অন্যদিকে সক্রেটিসের মতো যারা মনে করেন ‘কিছুই জানি না’, তাদের মধ্যেই প্রকৃত অনুসন্ধিৎসা ও জ্ঞানবৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়।মুক্ত ও দূরশিক্ষার মাধ্যমে ইগনু যেভাবে প্রান্তিক ও গ্রামীণ স্তরে শিক্ষা পৌঁছে দিচ্ছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন অধ্যাপক বসু।

তিনি জানান, ইগনুর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্টাডি সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের ভর্তি থেকে শংসাপত্র প্রাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সহায়তা করছে।ইগনুর বরিষ্ঠ আঞ্চলিক অধিকর্তা ড. বিশ্বজিৎ ভৌমিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান:

সমগ্র ভারতে এবার ৩ লক্ষ ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ডিগ্রি ও ডিপ্লোমা লাভ করেছেন।শিলিগুড়ি আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীনে মোট *২২৪৭ জন* শিক্ষার্থী সফল হয়েছেন।
এদিন সমাবর্তনে *১৪৬ জন* সশরীরে উপস্থিত হয়ে ডিগ্রি গ্রহণ করেন এবং বাকি ২১০১ জন অনুপস্থিত অবস্থায় ডিগ্রি পাচ্ছেন।

আঞ্চলিক এই কেন্দ্রে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় *৫৩ শতাংশ* এবং তফশিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST), ও ওবিসি (OBC) মিলিয়ে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীর হার *৬৮ শতাংশের* বেশি।এদিন সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ইংরেজিতে সঞ্চালনা করেন সোমা দাস। ইগনুর এই মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা আগামীদিনে জাতি গঠনে আরও বড় ভূমিকা নেবে বলে আশাপ্রকাশ করা হয় অনুষ্ঠান থেকে।