“পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি”— বিশ্বজয়ী রিচা ঘোষের বার্তা, শিলিগুড়িতে রাজকীয় সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদন:“যদি কেউ নির্দিষ্ট লক্ষ্য, নিয়মশৃঙ্খলা ও পরিশ্রম নিয়ে এগিয়ে চলে, তবে তাকে আটকানো যায় না”— এমন অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তাই দিলেন ভারতের বিশ্বজয়ী মহিলা ক্রিকেটার রিচা ঘোষ, নিজের শহর শিলিগুড়িতে ফিরে এসে।

ভারতে এতদিন ক্রিকেট মানেই ছিল পুরুষ ক্রিকেট দলের নাম। তবে মহিলাদের এই বিশ্বকাপ জয় ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন দিশা দেখাবে বলেই বিশ্বাস রিচার। তাঁর মতে, “মেয়েরা শুধু ক্রিকেট নয়, বিভিন্ন খেলায় আরও এগিয়ে আসুক— এটাই সময়।”
শুক্রবার সকালে বিশ্বজয়ের পর নিজের শহর শিলিগুড়িতে ফেরেন রিচা। সকাল থেকেই শহরজুড়ে ছিলো উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আবহ। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সুভাষ পল্লীর তাঁর বাড়ি পর্যন্ত সর্বত্র মানুষের ঢল— শিশু থেকে প্রবীণ, সকলেই একনজর দেখতে চেয়েছেন তাঁদের প্রিয় রিচাকে।
বিকেলে শিলিগুড়ি পুরসভার পক্ষ থেকে বাঘাযতীন পার্কের রবীন্দ্র মঞ্চে নাগরিক সংবর্ধনা জানানো হয় এই তারকাকে। বাড়ি থেকে পার্ক পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে বিছানো হয় রেড কার্পেট, শহরজুড়ে চলে উল্লাসের মিছিল। রিচাকে স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে সংবর্ধনা পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব।

বাঘাযতীন পার্কের রবীন্দ্র মঞ্চে প্রায় দেড়শোরও বেশি সংগঠন এদিন রিচাকে সংবর্ধনা জানায়। আবেগ ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে গোটা শহর। শিলিগুড়ি টেবিল টেনিসের শহর হিসেবে যেমন খ্যাত, তেমনই এবার ক্রিকেটের শহর হিসেবেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়গা করে নিচ্ছে— এমনটাই মত বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন চ্যাপ্টার টু-এর কর্মকর্তাদের।

এই সংবর্ধনায় বেঙ্গল টেবিল টেনিস এসোসিয়েশন চ্যাপ্টার টু এর তরফে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত রায়, রজত দাস, অর্পিতা দে সরকার প্রমুখ।
রিচার উজ্জ্বল সাফল্যে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে নিজের খুশির কথা প্রকাশ করেছেন অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত টেবিল টেনিস তারকা অর্জুন মান্তু ঘোষও। খবরের ঘণ্টাকে তিনি বলেন,
“শিলিগুড়ি এখন শুধু টেবিল টেনিসের শহর নয়, ক্রিকেটের শহরও বটে। রিচা আমাদের গর্ব।”

নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব রিচা দিয়েছেন তাঁর বাবা-মাকে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, “শিলিগুড়ির মতো শহরে একটি আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম খুবই প্রয়োজন”— এমন বার্তাও দিয়েছেন এই প্রতিভাময়ী ক্রিকেটার।

এক কথায়, শুক্রবারের দিনটি শিলিগুড়ির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে— কারণ এই দিনই শহর সাক্ষী থেকেছে এক তরুণীর বিশ্বজয়ের গৌরবের, যিনি প্রমাণ করেছেন— পরিশ্রমই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।