৬০০ কিমি পথ পেরিয়ে গোলাপের জয়ে শিলিগুড়ির গর্ব — পাঁচ পুরস্কারে উজ্জ্বল পুলক জোয়ার্দার

নিজস্ব প্রতিবেদন :
গোলাপ শুধু প্রেমের প্রতীক নয়, তা অধ্যবসায়, ধৈর্য ও নিষ্ঠারও প্রতিচ্ছবি। আর সেই বার্তাকেই বাস্তবে রূপ দিলেন শিলিগুড়ির বরদাকান্ত বিদ্যাপীঠের শিক্ষক পুলক জোয়ার্দার।
গত ৩ থেকে ৫ জানুয়ারি কলকাতায় বেঙ্গল রোজ সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত সর্বভারতীয় গোলাপ কনভেনশন ও প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে মোট পাঁচটি পুরস্কার জিতে উত্তরবঙ্গের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি।

ছাদের বাগান থেকে জাতীয় মঞ্চে
রথখোলার নিজের বাড়ির ছাদেই গত দুই দশক ধরে গোলাপ চাষ করছেন পুলকবাবু। ২০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম, যত্ন আর ভালোবাসায় গড়ে তুলেছেন এক অনন্য গোলাপ জগৎ। শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে কলকাতায় ১৭টি টবে গোলাপ গাছ নিয়ে পৌঁছানো ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করেই তিনি ফিরেছেন সাফল্যের মালা গলায়।

রবীন্দ্র সরোবরের সাফারি পার্কে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া রোজ শো-তে তাঁর মাটিতে প্রস্তুত করা টবের গোলাপ সেরার আসন দখল করে নেয়। যেখানে সারা বাংলা জুড়ে সিন্ডার বা ঘেস কালচারে গোলাপ চাষের ধারা প্রবল, সেখানে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন— সঠিক পরিচর্যা, ধৈর্য ও নিষ্ঠা থাকলে মাটিতেও অসাধারণ গোলাপ সম্ভব।এ যেন স্রষ্টা ও সৃষ্টির এক অপূর্ব মিলন। অনেকেই যেটাকে স্বপ্ন ভাবেন, সেটাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন শিলিগুড়ির এই সবুজ সৈনিক।
কলকাতার মঞ্চে মুগ্ধতা
কলকাতার অভিজ্ঞ উদ্যানপ্রেমী ও বিচারকমণ্ডলী তাঁর গোলাপের মান ও যত্ন দেখে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। শিলিগুড়ি হরটিকালচার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সেন জানান, জাতীয় স্তরে এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের পুষ্প প্রদর্শনীর সমাপনী দিনে পুলকবাবুকে সংবর্ধনা জানানো হবে।

লাল গোলাপ যেমন গভীর ভালোবাসার প্রতীক, হলুদ বন্ধুত্বের, গোলাপি কৃতজ্ঞতার আর সাদা শান্তির— তেমনই পুলক জোয়ার্দারের এই জয় আমাদের শেখায়, ভালোবাসা যদি কাজে মিশে যায়, তবে সাফল্য অবধারিত।
৭ ফেব্রুয়ারি, গোলাপ দিবসে তাঁর গল্প নতুন বার্তা দেয়—
কাঁটা থাকবে, পথ কঠিন হবে, কিন্তু নিষ্ঠা আর সাহস থাকলে গোলাপের মতোই একদিন প্রস্ফুটিত হবেই সাফল্য।
খবরের ঘন্টা — ইতিবাচক সংবাদে মানুষের পাশে।