রামকৃষ্ণ বেদান্ত আশ্রমে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মোৎসব উদ্‌যাপন, ভক্তদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদন :
শিলিগুড়ি শিবমন্দির আঠারোখাই এলাকার রামকৃষ্ণ বেদান্ত আশ্রমে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মোৎসব উপলক্ষে ৭ ও ৮ মার্চ দুই দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন আশ্রমের সন্ন্যাসী, ভক্ত ও এলাকার বহু মানুষ।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে মঙ্গল আরতির মাধ্যমে। এরপর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রভাতফেরি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় শ্রীশ্রী ঠাকুরের নিত্যপুজো সম্পন্ন হয় ভক্তদের উপস্থিতিতে। সারাদিন ধরে ধর্মসভা, ভজন, সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আশ্রম প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী জীবনানন্দ মহারাজ। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় তাঁর উপস্থিতিতে। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাঘবানন্দ মহারাজ, সুশান্তানন্দ মহারাজ, আত্মবোধানন্দ মহারাজ ও বিদ্যানন্দ মহারাজ। তাঁদের বক্তব্যে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের জীবনদর্শন, মানবপ্রেম ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বার্তা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পীরা সঙ্গীত, ভজন ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। বিশেষ আকর্ষণ ছিল সারদা সংঘ শিলিগুড়ি টাউন শাখার সদস্যাদের পরিবেশিত গীতি আলেখ্য, যা দর্শক ও ভক্তদের মুগ্ধ করে।

এদিন অনুষ্ঠানে শিশু শিল্পী শৌনক ভাদুড়ি ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করে সকলের মন জয় করে নেয়। তাঁর অভিনয়ে ফুটে ওঠে ঠাকুরের বিখ্যাত বাণী— “বিশ্বাসে মেলায় কেষ্ট, তর্কে বহুদূর।” শৌনকের সাবলীল অভিনয় ও সংলাপ দর্শক-ভক্তদের করতালিতে মুখর করে তোলে আশ্রম প্রাঙ্গণ।

ছোটবেলা থেকেই তাঁর অভিনয় প্রতিভা যেভাবে বিকশিত হচ্ছে, তা উপস্থিত সকলেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সার্বিকভাবে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে এবং ভক্তদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের জন্মোৎসব অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় আয়োজন।অনুষ্ঠানে” রামকৃষ্ণ শরনম ” নামে গীতি আলেখ্য পরিবেশন করে গানের ভেলা নামক সংস্থা। তাতে অংশ নেন জয়িতা মিত্র, মমতা চক্রবর্তী, স্বাগতা সিনহা,মন্দিরা মুখার্জি, মৌমিতা সরকার, অনন্যা চক্রবর্তী, নন্দিতা ভৌমিক। তাল বাদ্যে অংশ নেন তাপস বিশ্বাস।