শংকর রায়, কোচবিহার
কোচবিহারের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যমণ্ডিত রাসমেলা দীর্ঘদিন ধরেই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এবার জেলার বাকলা বকশিরহাটের টাকোয়ামারিতে এক ব্যক্তির অসাধারণ উদ্যোগে আয়োজিত রাসমেলা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। নিজের একার প্রচেষ্টা ও সমাজসেবার মনোভাব নিয়ে টানা দু’বছর ধরে এই রাসমেলার আয়োজন করে আসছেন কবিরাজ পূর্ণচন্দ্র বর্মন।

পূর্ণচন্দ্র বর্মন, পেশায় একজন কবিরাজ হলেও, সমাজসেবাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। নিজস্ব উদ্যোগে তিনি গত দু’বছর ধরে টাকোয়ামারিতে ১৫ দিনের একটি বর্ণাঢ্য রাসমেলার আয়োজন করে আসছেন। আশ্চর্যের বিষয়—এই মেলায় অংশ নিতে আসা দোকানদার বা শিল্পীদের কাছ থেকে তিনি কখনোই কোনো অর্থ গ্রহণ করেন না। বরং তিনি এই মেলাকে সম্পূর্ণ সমাজমুখী ও সেবামূলক উৎসবে পরিণত করেছেন।
মেলার পাশাপাশি তিনি আয়োজন করেন রক্তদান শিবির, যা এলাকার যুব সমাজকে অনুপ্রাণিত করছে। শিশু ও বড়দের বিনোদনের জন্য নিজ খরচে তৈরি করেছেন একটি বিনামূল্যের পার্ক—যেখানে রয়েছে সনাতন ধর্মের দেবদেবীদের মনোমুগ্ধকর মূর্তি ও পৌরাণিক কাহিনির চিত্রায়ণ। পার্কে সেলফি প্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর তৈরি বিমান ও হেলিকপ্টারের প্রতিরূপ।
এলাকার মানুষ জানান, পূর্ণচন্দ্র বর্মন তাঁর উপার্জনের বড় একটি অংশ সমাজের কল্যাণ ও ধর্মীয় কাজে ব্যয় করেন। রাসমেলা শুরু হয় পূর্ণিমা তিথিতে, এবং দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে ভিড় জমান এই মেলায়।
মানবসেবা ও ধর্মীয় চেতনার এক অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটিয়ে পূর্ণচন্দ্র বর্মন আজ হয়ে উঠেছেন কোচবিহারের গর্ব—এক সত্যিকারের সমাজসেবক, যিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা থাকলে একার প্রচেষ্টাতেই সম্ভব সমাজের কল্যাণ।

