সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, ডাস্টবিনে পড়ে থাকা সোনার গয়না গৃহবধূকে ফিরিয়ে দিলেন পৌরসভার কর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদন :
আজকের সময়েও যে সততা ও মানবিকতা সমাজে জীবিত রয়েছে, তার এক অনন্য উদাহরণ সামনে আনলেন বসিরহাট পৌরসভার এক ‘নির্মল বন্ধু’ কর্মী। ভুলবশত আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না খুঁজে পেয়ে তা প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিলেন দাউদ শেখ নামে ওই পৌরকর্মী।

জানা গেছে, বসিরহাট পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাপসী বিশ্বাস গত শনিবার সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় অসাবধানতাবশত নিজের প্রায় তিন ভরি সোনার গয়না আবর্জনার সঙ্গে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। প্রতিদিনের মতো ওই এলাকার ‘নির্মল বন্ধু’ কর্মী দাউদ শেখ যখন ময়লা সংগ্রহ করতে আসেন, তখন তাপসী দেবী সেই ডাস্টবিনটি তাঁর হাতে তুলে দেন।

এরপর দাউদ শেখ অন্যান্য দিনের মতোই আবর্জনা নিয়ে বসিরহাটের ময়লাখোলায় অবস্থিত মাতৃসদন বর্জ্য পদার্থ প্রসেসিং সেন্টারে চলে যান।সেখানে ডাস্টবিন খালি করার সময় একটি প্যাকেট তাঁর নজরে আসে। প্যাকেট খুলে তিনি দেখতে পান তার মধ্যে রয়েছে প্রায় তিন ভরি ওজনের সোনার গয়না, যার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।

বিষয়টি বুঝতে পেরে দাউদ শেখ দেরি না করে ঘটনাটি পৌরসভার কর্তৃপক্ষকে জানান এবং গয়নার প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।অন্যদিকে, গয়না হারিয়ে তাপসী বিশ্বাস দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। রবিবার সকালে দাউদ শেখ নিজে ওই গৃহবধূর পরিচয় যাচাই করার ব্যবস্থা করেন এবং তাঁকে প্রসেসিং সেন্টারে আসতে জানান।

তাপসী দেবী সেখানে পৌঁছে পরিচয়পত্র দেখিয়ে এবং গয়নাগুলি শনাক্ত করার পর দাউদ শেখ তাঁর হাতে সেগুলি তুলে দেন। এসময় পৌরসভার অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

নিজের হারানো গয়না ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাপসী বিশ্বাস। তিনি বলেন, আজকের দিনে এমন সততার পরিচয় পাওয়া সত্যিই বিরল। তিনি প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন যে আর কখনও গয়নাগুলি ফিরে পাবেন না। দাউদ শেখের সততা ও মানবিকতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, দাউদ শেখ বিনয়ের সঙ্গে জানান, তিনি কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যের জিনিস নিজের কাছে রাখার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই, তাই গয়নাগুলি মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।