শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভোটের প্রাক্কালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। চারটি প্রধান দলের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে একেক জনের একেক রকম চিত্র—কোথাও কোটি টাকার সম্পত্তি, কোথাও উচ্চশিক্ষা, আবার

কোথাও একেবারেই মামলাহীন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি।
নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

⭕সম্পত্তিতে এগিয়ে কে?
শিলিগুড়ির এই নির্বাচনে সম্পত্তির বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী Goutam Deb। তাঁর মোট সম্পত্তি প্রায় ₹৪.৫২ কোটিরও বেশি, যা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী Shankar Ghosh-এর মোট সম্পত্তি প্রায় ₹১.৬৯ কোটি।

সিপিএম প্রার্থী Sharadindu Chakraborty-এর সম্পত্তি তুলনামূলকভাবে অনেক কম—প্রায় ₹২০–২৫ লক্ষ (আনুমানিক), যা তাঁকে “সাদামাটা জীবনযাপন”-এর প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে।
কংগ্রেস প্রার্থী Aloke Dhara-র সম্পত্তির নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও সর্বসাধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়নি।

⭕ শিক্ষাগত যোগ্যতায় কারা এগিয়ে?
শিক্ষার দিক থেকে বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ সবচেয়ে এগিয়ে—তিনি Botany-তে PhD ডিগ্রিধারী এবং পেশায় শিক্ষক।
তৃণমূলের গৌতম দেব একজন Graduate Professional (BA, LLB), যিনি আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন।

সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত।
কংগ্রেস প্রার্থী আলোকে ধাড়ার শিক্ষাগত তথ্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত না হলেও তিনি স্থানীয় স্তরে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত।

⭕মামলার খতিয়ান
আইনি দিক থেকে দেখা গেলে—
গৌতম দেব: কোনও ফৌজদারি মামলা নেই
শরদিন্দু চক্রবর্তী: মামলাহীন
শঙ্কর ঘোষ: ৩টি ফৌজদারি মামলা (চলমান)
আলোকে ধাড়া: তথ্য প্রকাশিত নয় / অপ্রাপ্য
উল্লেখ্য, শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলিতে তিনি এখনও দোষী সাব্যস্ত হননি।

⭕ নির্বাচনী চিত্র
শিলিগুড়ি আসনে এবারের নির্বাচন কার্যত বহুমুখী হলেও মূল লড়াই ঘুরপাক খাচ্ছে চারটি প্রধান দলকে ঘিরে।
একদিকে অভিজ্ঞতা ও সম্পত্তিতে এগিয়ে গৌতম দেব, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী হিসেবে শঙ্কর ঘোষ, আবার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী—সব মিলিয়ে ভোটের সমীকরণ যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

 

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী—
প্রার্থীদের হলফনামা তাদের নিজস্ব ঘোষণার ভিত্তিতে তৈরি
।⭕খবরের সূত্র:
Election Commission of India-এ জমা দেওয়া হলফনামা

চিফ ইলেকটোরাল অফিসার, পশ্চিমবঙ্গ দপ্তরশিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে প্রার্থীদের আর্থিক ও শিক্ষাগত অবস্থান যেমন ভিন্ন, তেমনই আইনি অবস্থানেও রয়েছে পার্থক্য। তবে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের এই উৎসবে সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররাই—কার হাতে তুলে দেবেন নিজেদের প্রতিনিধি হওয়ার দায়িত্ব।