দৃষ্টির নয়, মনই আসল আলো”— শিলিগুড়িতে দৃষ্টিহীন শিল্পীদের অভিনয়ে রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’, মুগ্ধ শহর

নিজস্ব প্রতিবেদন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন—
“চোখে দেখি আলোর মেলা, তবু মনের চোখে দেখি আরও গভীর আলো।”এই অমর পঙ্‌ক্তি যেন জীবন্ত হয়ে উঠল রবিবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির দীনবন্ধু মঞ্চে, যেখানে দৃষ্টিহীন ও স্বল্পদৃষ্টি সম্পন্ন শিল্পীরা মঞ্চস্থ করলেন রবীন্দ্রনাথের নাটক ‘রাজা’।

‘শ্যামবাজার অন্যদেশ’ প্রযোজনায় এই নাটকের প্রতিটি দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দিল, দৃষ্টি হারালেও সৃজনশীলতা কখনও ম্লান হয় না। নাটকের সম্পাদনা ও নির্দেশনায় ছিলেন শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। মঞ্চে একে একে যখন ‘রাজা’র সংলাপ, সংগীত ও আবেগে ভরে উঠল, তখন উপস্থিত দর্শকরা যেন বুঝলেন—“দৃষ্টি না থাকলেও হৃদয়ের আলোই শিল্পীর সত্যিকারের দর্শন।”

দীনবন্ধু মঞ্চে সেই সন্ধ্যায় উপচে পড়েছিল নাট্যপ্রেমী মানুষ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুরাগী, এবং শহরের বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল পরিবেশপ্রেমী সংস্থা অপটোপিক। নাটক শুরুর আগে সংস্থার পক্ষ থেকে মেয়র গৌতম দেব, চেয়ারম্যান প্রতুল চক্রবর্তী, ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার, বরো চেয়ারম্যান মিলি সিনহা, কাউন্সিলর প্রশান্ত চক্রবর্তী, অভয়া বসু, এবং বিখ্যাত টেবিল টেনিস খেলোয়াড় অর্জুন মান্তু ঘোষ প্রমুখ বিশিষ্টজনকে সংবর্ধনা জানানো হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় এই ব্যতিক্রমী নাট্য সন্ধ্যা।

অপটোপিকের কর্ণধার দীপজ্যোতি চক্রবর্তী স্বাগত ভাষণে জানান, “আমরা চাই দৃষ্টিহীনরা শুধু দয়া নয়, মর্যাদা পাক—তাদের প্রতিভা সমাজের সামনে পৌঁছাক।”
মেয়র গৌতম দেব তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “দৃষ্টিহীনরা আমাদেরই অংশ। তাঁদের প্রতিভা, সাহস এবং মানসিক শক্তি সমাজের কাছে প্রেরণা। রবীন্দ্রনাথ যেমন বিশ্বাস করতেন—‘মানুষের মধ্যে যে আলো আছে, তাই তার সত্যিকার দৃষ্টি’— আজ সেই সত্যি আবার প্রমাণিত হলো।”

মঞ্চে দৃষ্টিহীন ও স্বল্পদৃষ্টি সম্পন্ন অভিনেতারা যেভাবে সংলাপ, আবেগ, ও সংগীতের মেলবন্ধনে *‘রাজা’*কে নতুন প্রাণ দিলেন, তাতে উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত হন।দীনবন্ধু মঞ্চের সেই সন্ধ্যায় যেন জেগে উঠেছিল রবীন্দ্রনাথের মানবতাবোধ—“অন্ধকার নয়, মানুষই আলোর স্রষ্টা।”
শিলিগুড়ি সেই আলোয় দেখল এক নতুন দৃষ্টি—মনের দৃষ্টি, শিল্পীর দৃষ্টি।