শিলিগুড়ির রমেশ শা— খালি চোখে দেখা যায় না এমন শিল্পকর্মে মুগ্ধ দেশ, সেলিব্রিটিদের প্রশংসায় ভূষিত মাইক্রো আর্টিস্টের স্বপ্ন ‘সংগ্রহশালা’ গড়া

নিজস্ব প্রতিবেদন:
সূক্ষ্ম শিল্পের জগতে এক অনন্য নাম রমেশ শা। শিলিগুড়ি চম্পাসারি সমরনগরে তাঁর বাড়ি। খালি চোখে দেখা যায় না এমন মাইক্রো আর্ট বা ক্ষুদ্র অঙ্কনকর্মের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। শিলিগুড়ির সমরনগরই তাঁর সৃষ্টির কেন্দ্র, যেখানে তাঁর বাড়ির দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর ছবি— যা তাঁর সাফল্যের সাক্ষ্য বহন করে।

১৯৯৩-৯৪ সাল থেকে শুরু হয় রমেশ শার শিল্পজীবন। সেই সময় থেকেই তিনি সূক্ষ্ম অঙ্কনের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের প্রতি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে শুরু করেন। কখনও দেশপ্রেম, কখনও মানবতা— তাঁর প্রতিটি শিল্প যেন একেকটি বার্তাবাহী সৃষ্টি।

বিগত তিন দশকে তাঁর শিল্পকর্মের প্রশংসা করেছেন বহু প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব— প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান, অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি, জয়াপ্রদা, শত্রুঘ্ন সিনহা, সংগীতজ্ঞ প্রয়াত মান্না দে ও বাপি লাহিড়ী— সকলেই তাঁর অসাধারণ দক্ষতার প্রশংসায় মুগ্ধ হয়েছেন।

রমেশ শা জানান,“খালি চোখে দেখা যায় না, তবুও আমার প্রতিটি শিল্পকর্মে আমি জীবনের সৌন্দর্য, দেশপ্রেম ও মানবতার বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করি।”

বর্তমানে তাঁর একটাই স্বপ্ন— নিজের বিরল শিল্পকর্মগুলো নিয়ে একটি সংগ্রহশালা বা মিউজিয়াম গড়ে তোলা, যাতে আগামী প্রজন্ম তাঁর এই অনন্য শিল্পরূপের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি চান সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা।

রমেশ শার এই অসাধারণ প্রতিভা কেবল শিলিগুড়ির গর্ব নয়, বরং ভারতের সূক্ষ্ম শিল্পকলার এক অমূল্য সম্পদ— যা প্রমাণ করে, সৃষ্টিশীলতার কোনো সীমা নেই, যদি থাকে নিষ্ঠা, ধৈর্য ও একাগ্রতা।