নিজস্ব প্রতিবেদক :
আজকের তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনা ও দর্শনকে আরও গভীরভাবে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন—এমনই মত প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট দার্শনিক, অধ্যাপক ও চিন্তাবিদ ডঃ রঘুনাথ ঘোষ।

১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন তথা জাতীয় যুব দিবসকে সামনে রেখে ‘খবরের ঘন্টা’-র দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের যুবকদের যদি ধৈর্য সহকারে স্বামীজির বাণী শোনানো যায় এবং নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা যায়, তবে তারা তমোগুণের অবসাদ কাটিয়ে সত্ত্বগুণের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
ডঃ ঘোষের কথায়, আজকের তরুণদের কাছে ঈশ্বরবিশ্বাসের চেয়েও বেশি প্রয়োজন নিজেদের উপর আস্থা রাখা। স্বামী বিবেকানন্দ বারবার বলেছেন“তোমরা প্রত্যেকেই সিংহের শাবক, ভেড়ার বাচ্চা নও।”
এই আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করাই যুব সমাজের প্রকৃত শক্তির বিকাশের চাবিকাঠি।তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন স্বামীজির সেই কালজয়ী আহ্বান—“নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, তাহলেই বিশ্বের উপর বিশ্বাস রাখা সহজ হবে।”এবং “উঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।”
ডঃ রঘুনাথ ঘোষ বলেন, মানবজীবন ধ্বংসের জন্য নয়, বরং অন্তর্নিহিত শক্তির বিকাশ ঘটিয়ে জীবনকে সার্থক করে তোলার জন্য। স্বামী বিবেকানন্দের মতে—“মানুষের মধ্যেই সমস্ত শক্তি নিহিত রয়েছে।”স্বামীজির জন্মদিন উপলক্ষে তিনি আরও বলেন, আজকের যুব সমাজের একটি অংশ তমোগুণ বা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকার জন্য শুধুমাত্র তাদের দোষারোপ করলে চলবে না।
বরং সেই যুবকদের কীভাবে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটাই হওয়া উচিত জাতীয় যুব দিবস পালনের প্রকৃত সার্থকতা।স্বামী বিবেকানন্দ চেয়েছিলেন দেশের তরুণ সমাজ আলোর পথে এগিয়ে যাক। কিন্তু যদি আমরা সেই তরুণদের পাশে না দাঁড়িয়ে তাদের আরও প্রান্তিক করে তুলি, তবে স্বামীজির জন্মদিন উদযাপন অর্থহীন হয়ে পড়বে—এমনই বার্তা দেন ডঃ রঘুনাথ ঘোষ।

