রেড এফএম ‘রেড দিবস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ সম্মানিত শিলিগুড়ির ড. শীলা দাশগুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদন :
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত রেড এফএম ৯৩.৫-এর ‘রেড দিবস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ “ইনস্পিরেশনাল মাদার অ্যান্ড চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড”-এ সম্মানিত হলেন শিলিগুড়ির কৃতী ব্যক্তিত্ব ড. শীলা দাশগুপ্ত। তিনি একজন সার্টিফায়েড নিউমারোলজিস্ট ও স্ট্রেস-ফ্রি স্পিরিচুয়াল কোচ হিসেবে সুপরিচিত।

বর্তমানে কর্মসূত্রে তিনি পরিবারসহ বেঙ্গালুরুতে থাকলেও তাঁর জন্ম ও শিকড় শিলিগুড়িতেই। এই সম্মানের খবর পৌঁছাতেই শিলিগুড়িতে তাঁর আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।বেঙ্গালুরুর ব্রিগেড গেটওয়ের ওরিয়ন মলে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখা বহু অনুপ্রেরণাদায়ী নারীকে সম্মান জানানো হয়।

ড. শীলা দাশগুপ্তের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী হরিপ্রিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাল রেডিও লিমিটেড (রেড এফএম ও সূর্যন এফএম)-এর সিওও শিবা কে., জুরি সদস্য আর. এস. ধর্মেন্দ্র, বিশিষ্ট গায়ক অবিনাশ চেব্বি এবং ওরিয়ন মল ও কর্ণাটকের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

অনুষ্ঠানের সময় রেড এফএম-এর আরজে পৃথ্বীর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. শীলা দাশগুপ্ত বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি নারী ও মায়ের মধ্যেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার অসীম শক্তি রয়েছে। আমার প্রচেষ্টা যদি সামান্য হলেও কারও জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তবে নিজেকে ধন্য মনে করব।

এই স্বীকৃতি আমাকে আরও বেশি মানুষকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য কাজ করতে উৎসাহ দেবে। পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের সমর্থনের জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধী সন্তানের মা হিসেবে সংসার, কাজ ও দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো সহজ ছিল না। কিন্তু ইতিবাচক মানসিকতার উদাহরণ কেউ দেখাতে সাহস করেনি, তাই আমাকেই সেই উদাহরণ হয়ে উঠতে হয়েছে।”

সংগীত, কবিতা, আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশ, নিউমারোলজি এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। আলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীতে স্নাতক (বি.মিউজ.) ডিগ্রি অর্জন করা ড. শীলা দাশগুপ্ত একজন ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হোল্ডারও বটে।

অতি স্বল্প সময়ে হনুমান চালিসা পাঠ করে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে রেকর্ড গড়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে ব্যস্ত আধুনিক জীবনের মাঝেও আধ্যাত্মিকতার চর্চা সম্ভব।

সহমর্মিতা, দৃঢ় মনোবল এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার যে পথ তিনি বেছে নিয়েছেন, এই সম্মান সেই পথচলারই স্বীকৃতি। একজন মা, পথপ্রদর্শক এবং সমাজ পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হিসেবে ড. শীলা দাশগুপ্তের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে