থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক আসরে পাড়ি দিচ্ছেন পায়েল : ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণার বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদন :আন্তর্জাতিক পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে শুক্রবার স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখলেন তরুণী ও খ্যাতনামা স্ট্রেংথ লিফটার পায়েল বর্মন।

পায়েল বলেন, “ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আমার স্বপ্ন ছিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে লড়াই করার। আজ সকলের সহযোগিতা এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছি। ছোট ভাই-বোনেরা, তোমরাও মন দিয়ে পড়াশোনা করো, খেলাধুলায় মন দাও, একদিন নিশ্চিত সাফল্য আসবে।”

বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা পায়েলকে ‘খাদা’ পরিয়ে সাদর অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁর যাত্রার সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন সরকার পায়েলের হাতে এক হাজার টাকার সম্মানমূলক সহায়তা তুলে দিয়ে বলেন, “সোনার সন্তান যেন সোনা জিতে আনে, এই আশীর্বাদ রইল।”

উল্লেখ্য, আর্থিক সংকট সত্ত্বেও পায়েলের এই যাত্রায় এগিয়ে এসেছে সংবাদমাধ্যম খবরের ঘন্টা এবং বহু শুভাকাঙ্ক্ষী। যাঁরা এগিয়ে এসেছেন তাঁরা হলেন শিলিগুড়ি ফুলেশ্বরী নন্দিনীর তরফে সংস্কৃতি কর্মী ও সমাজসেবী মঞ্জু সরকার। এগিয়ে এসেছেন রিষিলা বোসও।ফুলেশ্বরী নন্দিনী সংস্থার সংস্কৃতি কর্মী সংঘমিত্রা ঘোষ, মুর্শিদাবাদের ফুলবাগান থেকে লেখক ও কবি অশোক পাল(বাবলি পাল)ও এগিয়ে এসেছেন।তাঁরা 8420795125 এই গুগল পে নম্বরে কিছু অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছেন।  উত্তরবঙ্গ পৌষ মেলা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী জ্যোৎস্না আগরওয়ালা কিছু সহযোগিতা করেছেন । নদীয়া থেকে রিঙ্কু মিত্র পাল দু’দফায়  পায়েল বর্মনের গুগল পে নম্বরে কিছু অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছেন। রিঙ্কু মিত্র পালের পরিচিত কল‍্যাণী থেকে দেবাশীষ হালদার এবং অরুপ চক্রবর্তী কিছু অর্থ প্রদান করেছেন।শিলিগুড়ি এন্ড স্মাইল সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বিশিষ্ট সমাজসেবী নবকুমার বসাক দুহাজার টাকা  সহযোগিতা করেছেন । ২৬শে মে রাতে ফলহারিনী অমাবস্যা তিথিতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অনুরাগী এক ভক্ত, যিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক , পায়েলের গুগল পে নম্বরে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।  ২৭শে মে বিরাট খবর। ফলহারিনী অমাবস্যায় একজন শ্রীরামকৃষ্ণ অনুরাগীর কাছে পায়েলের মুখে হাসি ফোটাতে কাতর আবেদন জানিয়েছিলো খবরের ঘন্টা।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই মহৎ ব্যক্তি ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন পায়েলের একাউন্টে। ফলে পায়েলের থাইল্যান্ড যাওয়ার রাস্তা অনেকটা সহজ হয়ে পড়ে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকেন কবি ও লেখক এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অসমঞ্জ সরকার। তিনিও দু’দফায় পায়েলের একাউন্টে অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছেন।

পায়েলের থাইল্যান্ড যাওয়া এবং আসার টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছে। যাওয়ার তারিখ ১৫ জুলাই ২০২৫।
খেলা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।
 ৫ জুন ২০২৫ শিলিগুড়ির একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং মহানুভব ব্যক্তি ২০০০ টাকা পাঠিয়েছেন পায়েলের গুগল পে নম্বরে।তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।
৫ জুন রাতেই আরও একজন তরুনী যিনি নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক কিছু অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছেন পায়েলের গুগল পে নম্বরে।
৭ই জুন  মুম্বাই থেকে বিশিষ্ট প্রতিভাময়ী সঙ্গীত শিল্পী এবং সমাজসেবী রোমি মুখার্জি পায়েলের একাউন্টে কিছু অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছেন।
১০ই জুন মঙ্গলবার শ্রীরামকৃষ্ণ অনুরাগী এবং শিলিগুড়ি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ডেভলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক এবং সমাজসেবী উৎপল সরকার পায়েলের গুগল পে নম্বরে ২০০০/ টাকা পাঠিয়েছেন।  গুরু পূর্নিমা ১০ জুলাই
বানী মন্দির রেলওয়ে হাইস্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক সুদীপ্ত কুমার জানা পায়েলের একাউন্টে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছেন
বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী বুলবুল বোস পায়েলের গুগল পে নম্বরে এক  হাজার টাকা পাঠিয়েছেন
বিখ্যাত এক নাট্য ব্যক্তিত্ব  এক হাজার টাকা পাঠিয়েছেন পায়েলের গুগল পে নম্বরে।তিনি নিজের নাম প্রকাশ করতে চান না
বাদল সাহা নামে একজন ৫০০ টাকা পাঠিয়েছেন
বিশিষ্ট সমাজসেবী জ্যোৎস্না আগরওয়ালা আগে ২ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি গুরু পূর্নিমা তিথিতে জানিয়েছেন, শ্রীরামকৃষ্ণ সমিতি থেকে পাঁচ হাজার টাকার চেক আজকালের মধ্যে পায়েলের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
আরও যারা সহযোগিতা করেছেন বিকাশ মুখার্জি — মুম্বাই খ্যাত বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী রোমি মুখার্জির বাবা— ১০০০ টাকা। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অনুরাগী এবং একজন ধার্মিক মহানুভব ব্যক্তি ১১ জুলাই দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন পায়েলের একাউন্টে। জয়া ঘোষ পাঠিয়েছেন ৫০০ টাকা। দীপিকা বন্দ্যে,জি এইচ আর পিস ফাউন্ডেশন থেকে  পাঠিয়েছেন ৫০০ টাকা।

  • পায়েলের সঙ্গে আগামী ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক মানের স্ট্রেংথ লিফটার শর্মিষ্ঠা লাহিড়ীও শিলিগুড়ি থেকে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। শর্মিষ্ঠা লাহিড়ীর আশ্রয়ে থেকেই পায়েল নিজের জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন, ক্রীড়াক্ষেত্রকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছেন।

শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী ও পায়েল বর্মন দু’জনেই জানিয়েছেন, তাঁরা থাইল্যান্ডের মাটিতে বাংলার এবং ভারতের সুনাম বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।