প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে দেশপ্রেমের আত্মসমালোচনা: ‘আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?’ প্রশ্ন তুললেন সুব্রত দত্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের আগমুহূর্তে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ নিয়ে ভাবনার আহ্বান জানালেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শিলিগুড়ি লিটারারি সোসাইটি–র সভাপতি, লেখক ও শিক্ষানুরাগী সুব্রত দত্ত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল স্বাধীনতার গভীরতর প্রশ্ন—দেশ রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হলেও, আমরা কি সত্যিই মননে ও চিন্তায় স্বাধীন হতে পেরেছি?

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সুব্রতবাবু বলেন, “স্বাধীনতা কেবল শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নয়। স্বাধীনতা মানে মুক্ত মন, মুক্ত বুদ্ধি ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ভাবতে শেখা। আজও কি আমরা সেই মানসিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি?” তাঁর মতে, সমাজে বিদ্যমান নানা ধরনের মানসিক সংকীর্ণতা আমাদের চিন্তা ও বোধশক্তিকে ক্রমশ সঙ্কুচিত করে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

এই প্রসঙ্গে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও দর্শনের কথা স্মরণ করেন। সুব্রত দত্ত বলেন, সমাজ গঠনে স্বামীজির অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে স্বামীজির ভাবনাকে নতুন করে উপলব্ধি করা জরুরি।

স্বামী বিবেকানন্দের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী তুলে ধরে সুব্রতবাবু বলেন— “উঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।”“একটি ভাব নাও, সেই ভাবকেই জীবন করো—তাতে চিন্তা করো, স্বপ্ন দেখো, বাঁচো।”এই বাণীগুলি আজকের যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সুব্রত দত্ত আরও বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য এখন থেকেই আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। ছাত্রসমাজকে এগিয়ে দিতে পারলেই দেশ ও সমাজের সুস্থ ও সুষ্ঠু অগ্রগতি সম্ভব। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শিলিগুড়ি লিটারারি সোসাইটি গত কয়েক বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে—পাঠচর্চা, চিন্তাভাবনা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে।

শেষে তিনি সকল দেশবাসীকে আন্তরিকভাবে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং দেশপ্রেমকে কেবল আবেগে নয়, দায়িত্ব ও সচেতনতার মাধ্যমে বাস্তব রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।