নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন তথা জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে তাঁর জীবন ও দর্শন নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন বিশিষ্ট দার্শনিক, অধ্যাপক ও গবেষক ডঃ রঘুনাথ ঘোষ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্বমঞ্চে ভারতের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার আগেও এবং বিশ্বজয়ের পরেও স্বামী বিবেকানন্দকে বারবার মানুষের অবজ্ঞা ও বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল।

কিন্তু সেই সমস্ত প্রতিকূলতা কখনওই তাঁকে মানবকল্যাণ, দেশ ও জাতির মঙ্গলের কাজ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্যুত করতে পারেনি।ডঃ ঘোষ বলেন, বিরোধিতা ও কটুক্তির মাঝেও স্বামীজি ছিলেন অটল ও দৃঢ়চেতা। যাঁরা সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করতেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে স্বামী বিবেকানন্দ ব্যঙ্গার্থে “কুয়োর ব্যাঙ” শব্দটি ব্যবহার করতেন—যার মাধ্যমে তিনি সীমাবদ্ধ চিন্তা ও বদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করতেন।
স্বামী বিবেকানন্দ কেমন যুবসমাজ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেন ডঃ রঘুনাথ ঘোষ। তাঁর কথায়, স্বামীজি এমন যুবকদের স্বপ্ন দেখতেন—
যাদের শরীর হবে ইসলামিক ভাবনায় দৃঢ় ও শক্তিশালী, বুদ্ধি হবে বেদান্ত দর্শনে ঋদ্ধ এবং হৃদয় হবে গৌতম বুদ্ধের মতো করুণাময়।
এই তিনের সমন্বয়েই প্রকৃত মানবিক ও শক্তিশালী সমাজ গঠন সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।ডঃ ঘোষ আরও উল্লেখ করেন, স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন সম্পূর্ণভাবে সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে। ধর্মকে তিনি কখনও বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে দেখেননি; বরং মানবতার বৃহত্তর বন্ধনে মানুষকে একসূত্রে বাঁধতেই তাঁর আজীবন প্রয়াস ছিল।
১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ও জাতীয় যুব দিবসের মুহূর্তে এই বক্তব্য আবারও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়—অবজ্ঞা, বাধা কিংবা বিরোধিতা সত্ত্বেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে কীভাবে এক ব্যক্তি গোটা জাতির চিন্তাধারাকে আলোকিত করতে পারেন। স্বামীজির সেই আদর্শ আজও যুবসমাজের কাছে পথপ্রদর্শক হয়ে রয়ে গেছে।

