কিংবদন্তির বিদায়—প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে

বিশেষ প্রতিবেদন :ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক যুগের অবসান। কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী আশা ভোঁসলে ১২ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার মুম্বইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে, জন্মনাম: আশা মঙ্গেশকর। তাঁর বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন খ্যাতনামা সঙ্গীতজ্ঞ। অল্প বয়সেই পিতার মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে।

মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র মাঝা বল -এ প্রথম গান রেকর্ড করেন।
শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমদিকে তিনি মূল নায়িকার জন্য নয়, পার্শ্বচরিত্র বা ভ্যাম্প চরিত্রের জন্য গান গাইতেন।
তবে ১৯৫৭ সালে নয়া দৌড় ছবির গান— উদেন জব জব জুলফে তেরি

এবং মাং কে সাথ তুমহারা—তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি।
আশা ভোঁসলের ক্যারিয়ার ছিল প্রায় ৮ দশকেরও বেশি দীর্ঘ। তিনি—

১২,০০০ এরও বেশি গান গেয়েছেন বিভিন্ন ভাষায়
হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি সহ বহু ভাষায় কাজ করেছেন
গজল, কাওয়ালি, পপ, শাস্ত্রীয়, লোকগান—সব ধারাতেই সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন

ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি পেয়েছেন বহু সম্মাননা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার
পদ্ম বিভূষণ।

অল্প বয়সেই তিনি গণপতরাও ভোঁসলেকে বিয়ে করেন, যদিও পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁর তিন সন্তান ছিল।
তিনি শুধু গায়িকা নন, একজন সফল উদ্যোক্তাও ছিলেন—বিদেশে তাঁর রেস্তোরাঁ চেইনও ছিল।

গত ১১ এপ্রিল শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রধান সমস্যা হচ্ছিল অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণ।পরবর্তীতে জটিলতা বাড়ে।শেষ পর্যন্ত মাল্টি-অর্গান ফেলিওর / কার্ডিয়াক জটিলতার কারণে মৃত্যু হয়।

রবিবার ১২ এপ্রিল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সঙ্গীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
আশা ভোঁসলের মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, এটি ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর বৈচিত্র্য, তাঁর সাহসী পরীক্ষামূলক কাজ—সবকিছুই তাঁকে চিরকাল অমর করে রাখবে।তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও কোটি মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে গোটা দেশের সঙ্গীত ও সংস্কৃতি জগত শোকস্তব্ধ।