ফুটপাত দখল ও পার্কিং জটের জাঁতাকলে শিলিগুড়ির বিধান রোড, বিপাকে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সকালে ফুটপাত থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও বিকেল হলেই ফের ফিরে আসে সেই একই চিত্র। শিলিগুড়ি শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে প্রতিদিনই এভাবে ফুটপাত দখল করে বেআইনি ব্যবসা চলতে থাকায় চরম সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ পথচারীরা। প্রশ্ন উঠছে—ব্যস্ত রাস্তায় ফুটপাত দখল হয়ে থাকলে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করবে কীভাবে?

ফুটপাত দখল শুধু পথচারীদের সমস্যাই বাড়াচ্ছে না, শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশ প্রায়ই অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলকারীদের সরিয়ে দিলেও পুলিশের চোখের আড়াল হলেই আবার আগের মতোই ফুটপাত দখল করে বসে পড়ছেন তাঁরা।

সোমবার দুপুরে এমনই একটি ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে ‘খবরের ঘন্টা’-র মোবাইলে। শিলিগুড়ির বিধান রোডে ফুটপাত জুড়ে কার্যত পার্কিং হয়ে উঠেছে। স্কুটি বা বাইক পার্ক করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। তার মধ্যেই ফুটপাত দখল করে নির্বিঘ্নে চলছে বেআইনি ব্যবসা।

ফুটপাত দখল, পার্কিং সংকট ও লাগাতার যানজটের জেরে ক্রেতাদের বড় অংশই এখন বিধান মার্কেট, হিলকার্ট রোড কিংবা বিধান রোড এলাকায় কেনাকাটা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে দিনকে দিন বিধান মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকার ব্যবসার পরিস্থিতি তলানিতে ঠেকছে।

এমনিতেই একাংশ ক্রেতা শপিং মল বা অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত, তার উপর শহরের প্রধান রাস্তায় এই ধরনের অব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।অভিযোগ উঠছে, ফুটপাত দখল করে বসা কিছু ব্যবসায়ী এখন তাদের ব্যবসার ক্ষতির অজুহাতে বিধান রোড এলাকায় পার্কিং করতেও বাধা দিচ্ছেন।

বিধান রোড সংলগ্ন এন আর সেক্টর এলাকার ফুলবাজারের তরফে রনপদ সেন সহ অন্যান্য ফুল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ফুটপাত দখল করে চলা বেআইনি ব্যবসার কারণে তাঁদের ব্যবসা মার খাচ্ছে। পার্কিং সমস্যার জেরে বহু ক্রেতাই ফুলবাজারে ঢুকতে চাইছেন না। তাঁরা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ফুটপাত দখল করে বসে থাকা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, তাঁরা গরিব মানুষ, কোনওরকমে রোজগার করেই সংসার চালান। কিন্তু তাঁদের এই যুক্তির পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ পথচারীরা—তাহলে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার কোথায় যাবে, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারছেন না ফুটপাত দখলকারীরা।

সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি শহরে পার্কিং সমস্যা, ফুটপাত দখল এবং যানজট ক্রমশই গুরুতর আকার ধারণ করছে। ‘চিকেন নেক’ হিসেবে পরিচিত এই শহরে যদি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয় এবং কোনও বড় বিপর্যয় ঘটে, তখন কি এই সমস্যাগুলির যথাযথ উত্তর পাওয়া যাবে—এই প্রশ্নই এখন শহরবাসীর মুখে মুখে।