আশা ভোঁসলে স্মরণে পাঞ্চালির আবেগঘন শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদনা: সকালের আলোয় একটুখানি আশার আলো ছিল—হয়তো খবরটি ভুল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে গেল কঠিন সত্য। সুরের জগৎকে শূন্য করে চিরবিদায় নিয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে । আর সেই শোকের মুহূর্তেই স্মৃতির দরজা খুলে গেল শিলিগুড়ির লেকটাউন বাবুপাড়ার বাসিন্দা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী পাঞ্চালি চক্রবর্তীর।
পাঞ্চালির কথায়, “একটা সময় ছিল, যখন শিলিগুড়ি সাক্ষী থাকত এমন সব বিরল শিল্পীদের নিবেদনের।

তাঁকে দু’বার কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। শেষবার যখন দেখি, তখন আমি কিশোরী। আজও মনে আছে—হালকা গোলাপি শাড়িতে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি।” সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অমূল্য প্রাপ্তি—নিজের অটোগ্রাফ খাতায় পাওয়া আশা ভোঁসলের লেখা, “প্যায়ার কে সাথ, আশা ভোঁসলে”।

১৯৮৯-৯০ সালে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে মঞ্চে উঠেছিলেন দুই কিংবদন্তি বোন—লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই পাঞ্চালি চক্রবর্তী সংগ্রহ করেছিলেন তাঁর প্রিয় শিল্পীর অটোগ্রাফ—যা আজ তাঁর কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, “তিনি ছিলেন মঞ্চের অধিশ্বরী। তাঁর প্রতিটি পরিবেশনায় সেই মহিমার ছাপ থাকত। তাঁর চলে যাওয়া মানে এক যুগের অবসান।”শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পাঞ্চালি চক্রবর্তী শুধু স্মৃতিচারণাতেই থেমে থাকেননি। খালি গলায় গেয়ে উঠেছেন আশা ভোঁসলের কয়েকটি জনপ্রিয় গান, যেন সুরের মধ্য দিয়েই জানালেন তাঁর শেষ প্রণাম।

শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এই স্মৃতিচারণ যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—কিছু মানুষ সময়ের গণ্ডি পেরিয়েও থেকে যান, তাঁদের সৃষ্টির মধ্যে, তাঁদের স্পর্শে, আর অনুরাগীদের হৃদয়ে।