আশা ভোঁসলের মিষ্টি স্মৃতিতে শিলিগুড়ি

বাপি ঘোষ : কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আশা ভোঁসলে
নিজের হাতে প্লেটে তুলে দিচ্ছেন রসগোল্লা আর লালমোহন — ৩৬ বছর আগের এমন এক আন্তরিক মুহূর্ত আজও স্পষ্ট মনে গেঁথে আছে বিশিষ্ট চিত্র সাংবাদিক রবি ভট্টাচার্যের । ভারতীয় সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের প্রয়াণের পর রবিবার আবেগঘন কণ্ঠে ৩৬ বছর আগের সেই বিরল স্মৃতি খবরের ঘন্টার কাছে একান্তভাবে ভাগ করে নিলেন রবি ভট্টাচার্য ।

সময়টা ১৯৮৯-৯০ সাল। শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল হাকিমপাড়ার বিবেকানন্দ ক্লাব, ভি এন সি। সেই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন দুই বোন—ভারতের সঙ্গীতের দুই মহাতারকা লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলে। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে একসঙ্গে মঞ্চে ওঠেন এই দুই কিংবদন্তি, যা শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অনন্য ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শহরের মাল্লাগুড়ির এক অভিজাত হোটেলে উঠেছিলেন দুই বোন। সেখানেই ক্যামেরাবন্দি হয় তাঁদের একসঙ্গে কাটানো কিছু অমূল্য মুহূর্ত, যার সাক্ষী ছিলেন রবি ভট্টাচার্য। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন সেই স্মৃতির অংশীদার।

রবি ভট্টাচার্যের কথায়, “সেই সময়টা শুধু পেশার নয়, জীবনেরও এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আশাজি নিজে হাতে আমাকে প্লেটের মধ্যে রসগোল্লা আর লালমোহন তুলে দিয়েছিলেন—এটা শুধু সৌজন্য নয়, এক আন্তরিক মানবিক স্পর্শ।”

রবিবার ১২ এপ্রিল , আশা ভোঁসলে-র প্রয়াণে যখন সারা দেশ শোকাহত, তখন শিলিগুড়ির বুকেও ভেসে উঠছে সেই সোনালি দিনের স্মৃতি। আর সেই স্মৃতির ভাঁজে জড়িয়ে আছে সঙ্গীত, ভালোবাসা এবং এক নিখাদ মানবিক মুহূর্ত—যা সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও সমান উজ্জ্বল।