সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, হায়দরপাড়া, শিলিগুড়ি:
খাদ্য রসিক বাঙালির কাছে এই সংক্রান্তির দিনটা খুবই ভালো দিন। মনে পড়ছে, এই পৌষ সংক্রান্তির দিনে আমরা বিশেষ করে ছেলেরা ছাদে উঠে নানা ধরণের ঘুড়ি ওড়াতাম। সারাটা দিন আমাদের ছাদেই কাটতো।আর মাঝে মধ্যেই থালায় করে,বাটি করে আসতো বিভিন্ন ধরণের পিঠে সাথে থাকতো খেজুর গুড়ের পায়েস।

আমাদের শ্রীরামপুরে (হুগলি জেলা) এই সংক্রান্তির দিনে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুড়ি আকাশকে ঢেকে দিত। অনেকের বাড়িতে চোঙা চারদিকে লাগিয়ে মাইকেই চটুল গান চলতো।আর ক্ষণে ক্ষণে মাইক ফুকে জানান দেওয়া হতো মুখপোড়াকে কেটে দিয়েছে পেটকাটা।অতি উৎসাহী হয়ে কেউ কেউ ধারাভাষ্যকার হয়ে আকাশের নানা বিবরণ দিতে, অবশ্যই ঘুড়ির অবস্থানকে কেন্দ্র করে।
এককথায় বলতে হয় ,মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় তর্জনী ক্ষত বিক্ষত হওয়া ছাড়া সবটাই ছিল আনন্দের।পিসতুতো দাদারা তাদের বন্ধুদের নিয়ে,কাকারা তাদের বন্ধুদের নিয়ে,মাঞ্জা সুতো এবং নানা ধরণের ঘুড়ি নিয়ে যখন আসতো আমাদের আনন্দ তখন দুগুন হয়ে যেত।
পিঠে পুলি হবার জন্য রাজবংশী সম্প্রদায়ের এই বিশেষ সময়ে তাদের উড়ান আর ডাইন নিয়ে চাল গুঁড়ো করতে ব্যস্ত। খদ্দেরও প্রচুর।আমিও বুধবার উদযাপন করছি পৌষ পার্বণ।

