নিজস্ব প্রতিবেদন :
২১শে ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা গর্বভরে উদযাপন করি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করি, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করি। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি—একটি শিশু জন্মের পর প্রথম কোন ভাষা শোনে?

শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তব বলছে অন্য কথা।
শিলিগুড়ির আশ্রমপাড়ার নিউ রামকৃষ্ণ সেবা সদনের বিশিষ্ট স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ জি বি দাস জানাচ্ছেন এক তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণের কথা। দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে অসংখ্য প্রসব করিয়েছেন তিনি। বহু নবজাতকের জন্ম মুহূর্তের সাক্ষী এই অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তাঁর কথায়, গত সাত-আট বছরে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু স্পষ্ট পরিবর্তন চোখে পড়ছে।
আগে যখন সদ্যোজাত শিশুকে মায়ের সামনে আনা হতো, মায়েরা আবেগভরে বলতেন—“ছেলে” বা “মেয়ে”। এখন সেই জায়গায় খুব স্বাভাবিকভাবেই শোনা যাচ্ছে—“বেবি বয়” অথবা “বেবি গার্ল”।অর্থাৎ, জন্মের পর পৃথিবীর আলো দেখেই একটি শিশু তার মায়ের মুখ থেকে প্রথম যে শব্দটি শুনছে, তা অনেক সময়ই বাংলা নয়, ইংরেজি!
মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে এই পরিবর্তন নিছক ভাষার বদল নয়, বরং সময়ের স্রোতে সমাজ-মানসিকতারও এক প্রতিফলন। গ্লোবালাইজেশনের যুগে ইংরেজি যেন ক্রমশ ঘরের ভাষার ভেতর ঢুকে পড়ছে। মা–সন্তানের প্রথম সংলাপেও তার ছাপ স্পষ্ট।এখানেই শেষ নয়। ডাঃ দাস আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতার কথা তুলে ধরেছেন।
বর্তমানে সিজারিয়ান প্রসবের হার বেড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিশেষ বিশেষ দিন—যেমন মহা শিবরাত্রি বা দোলযাত্রা—এই ধরনের শুভ তিথিতে সন্তান জন্মের ইচ্ছা নিয়ে বহু দম্পতি চিকিৎসকের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন।
সময় বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি এগোচ্ছে, মানুষের ভাবনাও রূপান্তরিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—ভাষার আবেগ কি অজান্তেই বদলে যাচ্ছে?আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঠিক আগে এই পর্যবেক্ষণ আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। মাতৃভাষা শুধু ইতিহাস নয়, তা আমাদের প্রথম উচ্চারণ, প্রথম অনুভূতিরও অংশ। জন্মের সেই প্রথম শব্দ—তা কি বাংলাতেই ফিরিয়ে আনা যায় না?চলুন, শুনে নেওয়া যাক অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ জি বি দাসের আরও বিশদ মতামত—সময়ের পালাবদলে ভাষা ও মানসিকতার এই সূক্ষ্ম পরিবর্তন নিয়ে।

