ছাদের সবুজেই জীবনের প্রেরণা — ৮৭ বছরেও উদ্যমী শিলিগুড়ির শৈলেশ্বর চক্রবর্তী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শহুরে জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির সঙ্গে গভীর বন্ধন গড়ে তুলে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিলিগুড়ির সুভাষ পল্লীর বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী শৈলেশ্বর চক্রবর্তী। বয়সের ঘড়িতে ৮৭–এর কাঁটা ছুঁয়েও তাঁর প্রাণচাঞ্চল্য আর কর্মস্পৃহা অনেক তরুণের কাছেই ঈর্ষণীয়। আর এই সতেজতার মূল মন্ত্র—নিজের হাতে গড়ে তোলা ছাদ বাগান।

তাঁর বাড়ির ছাদ যেন এক ক্ষুদ্র সবুজ উদ্যান। টবে টবে সাজানো রয়েছে আম, আমড়া, ডালিম, তেঁতুল, কামরাঙা, জামরুলসহ নানা ফলের গাছ। তার সঙ্গে রঙিন বাহারে ভরপুর বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। প্রতিটি গাছের প্রতি রয়েছে তাঁর সন্তানের মতো মমতা ও যত্ন।

১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে কথা বলতে গিয়ে শৈলেশ্বরবাবু হাসিমুখে জানান, “এই গাছগুলোই আমার ভালোবাসা, আমার অক্সিজেন।” তাঁর কথায় স্পষ্ট—প্রকৃতির সান্নিধ্যই তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ রেখেছে এত বছর।

তাঁর সহধর্মিণী, শিলিগুড়ির নেতাজি গার্লস হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অসীমা চক্রবর্তীও স্বামীর সুস্থতার রহস্য হিসেবে গাছের প্রতি এই নিবিড় অনুরাগকেই তুলে ধরেন। প্রতিদিন সকালে পালা করে ছাদে উঠে গাছে জল দেওয়া, পরিচর্যা করা—এ যেন তাঁদের নিত্যদিনের আনন্দযাপন।

শুধু শখ নয়, তাঁর এই সবুজ সাধনা ইতিমধ্যেই স্বীকৃতিও পেয়েছে। চলতি বছরেও শিলিগুড়ি হর্টিকালচার সোসাইটি এবং স্থানীয় পুরসভার তরফে তাঁকে উৎসাহ ও সম্মাননা জানানো হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে শৈলেশ্বরবাবুর বার্তা স্পষ্ট—গাছকে ভালোবাসুন, প্রকৃতির যত্ন নিন, তাহলেই জীবন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত। তাঁর এই ছাদ বাগান আজ কেবল ব্যক্তিগত নেশা নয়, ফুলপ্রেমী মহলে এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।
সবুজের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই প্রমাণ করে—বয়স শুধু সংখ্যা, মন যদি থাকে তরতাজা।