শিলিগুড়িতে বিশ্ববিখ্যাত জিউ-জিৎসু প্রশিক্ষক মিকো হাইটোনেন, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণায় ভরপুর বিশেষ সফর

নিজস্ব প্রতিবেদন:
আন্তর্জাতিক ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিৎসু জগতের বিশ্বখ্যাত প্রশিক্ষক মিকো হাইটোনেনের আগমনে উদ্দীপনায় ভরে উঠলো শিলিগুড়ি । মঙ্গলবার তিনি শিলিগুড়ি মহকুমার বিধান নগরের মুরলীগঞ্জ হাইস্কুলে পৌঁছান। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে বিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ক্রীড়া, জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের পথচলা নিয়ে তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন।

ছাত্রছাত্রীদের এক প্রশ্নের উত্তরে মিকো হাইটোনেন জানান, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই তিনি আজকের এই সাফল্যে পৌঁছেছেন। তাঁর মতে, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো নিজের ওপর অটুট আত্মবিশ্বাস রাখা এবং অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই দুটি বিষয়ই একজন মানুষকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে।

মুরলীগঞ্জ হাইস্কুলের প্রতিভাবান ও ব্যতিক্রমী প্রধান শিক্ষক সামসুল আলম জানান, বিশ্ববিখ্যাত এই প্রশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে তিনি ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে বহু অজানা তথ্য জানতে পেরেছেন। বর্তমানে স্পেনে বসবাস করলেও মিকো হাইটোনেন দীর্ঘ সময় ফিনল্যান্ডে কাটিয়েছেন। তিনি জানান, ফিনল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দেশ, যেখানে প্রায় সকল শিক্ষার্থী সরকারি বিদ্যালয়েই পড়াশোনা করে—যা শিক্ষার সমতা ও মান বজায় রাখার এক অনন্য উদাহরণ।

এদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে মিকো হাইটোনেনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কুডো প্রশিক্ষক সেনসি সহদেব বর্মন, যাঁর সক্রিয় উদ্যোগেই এই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষকের শিলিগুড়ি সফর সম্ভব হয়েছে। শিক্ষারত্ন প্রধান শিক্ষক সামসুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নিজের ওপর বিশ্বাস, সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং অপরকে সাহায্য করার মানসিকতা—এই গুণগুলো যার মধ্যে থাকে, তাকে সাফল্যের পিছনে ছুটতে হয় না; বরং সাফল্যই তার পিছু নেয়।”

এই প্রসঙ্গে শিক্ষাজগতের মনীষীদের বাণী বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বলেছিলেন, “মানুষের চরিত্র গঠনের জন্য শিক্ষা অপরিহার্য।” নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কথায়, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব,”—এই আহ্বান আত্মবিশ্বাস ও আত্মত্যাগের শক্তিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও শিক্ষাকে মানুষের মন ও মানবতাকে জাগ্রত করার মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন।

মিকো হাইটোনেনের এই সফর শুধু মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ছাত্রছাত্রীদের জীবনে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হয়ে রইল।