সিকিমে শক্তিলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে শিলিগুড়ির মেয়েদের দুর্দান্ত সাফল্য — একাধিক বিভাগে সেরা, নতুন জাতীয় রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদন,১৮ নভেম্বর:
সিকিমের পালজোর স্টেডিয়ামে ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৩৫তম ন্যাশনাল স্ট্রেংথলিফটিং অ্যান্ড ইনক্লাইন বেঞ্চ প্রেস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫। সারা দেশ থেকে অসংখ্য প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে জমজমাট এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে শিলিগুড়ির মেয়েরা নজরকাড়া সাফল্য এনে দিলেন রাজ্যকে।

শিলিগুড়ির স্কুলছাত্রী আস্থা লাহিড়ী সাব-জুনিয়র বিভাগে ইনক্লাইন বেঞ্চ প্রেসে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জাতীয় স্তরে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স উপহার দেয়।

অন্যদিকে, ৫৮ কেজি মাস্টার–ওয়ান বিভাগে অনবদ্য পারফরম্যান্সে সকলকে তাক লাগান শিলিগুড়ির গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী। ইনক্লাইন বেঞ্চ প্রেস এবং স্ট্রেংথলিফটিং— দুই বিভাগেই প্রথম স্থান দখল করার পাশাপাশি তিনি একাধিক নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করেন।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

টু-হ্যান্ড বাইসেপ কার্লে ৩৫ কেজি তুলেই জাতীয় রেকর্ড,

ইনক্লাইন বেঞ্চ প্রেসে ৫২.৫ কেজি তুলেও নতুন জাতীয় রেকর্ড,
হ্যাক লিফটিংয়েও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন।
সিনিয়র বিভাগেও শিলিগুড়ির জয়ের ধারা অব্যাহত থাকে। পায়েল বর্মন ইনক্লাইন বেঞ্চ প্রেসে প্রথম স্থান দখল করার পাশাপাশি সকল সিনিয়র মহিলা প্রতিযোগীর মধ্যে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জন করেন।
জাতীয় মঞ্চে শিলিগুড়ির এই তিন ক্রীড়াবিদ— আস্থা, শর্মিষ্ঠা এবং পায়েল— এর সাফল্য নিঃসন্দেহে উত্তরবঙ্গ ও সমগ্র বাংলার ক্রীড়া জগতে নতুন গৌরব যোগ করেছে। তাদের এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল যে শিলিগুড়ির মেয়েরা শক্তিলিফটিংয়ে দিনকে দিন জাতীয় স্তরে শহরের সুনাম বাড়িয়ে চলেছেন।
সোমবার বিকেলে শিলিগুড়ির দেশবন্ধু পাড়ার এনটিএস মোড়ের একটি জিমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী ও পায়েল বর্মন। নিয়মিত অনুশীলনের সেই জিম থেকেই তারা এগিয়ে চলেছেন জাতীয় মঞ্চের দিকে। জিম কর্তৃপক্ষ তাদের এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে অভিনন্দন জানায়।

সেখানে শর্মিষ্ঠাদেবী বলেন, “শিলিগুড়ির মেয়েরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্ট্রেংথলিফটিংয়ে শহরের সুনাম বৃদ্ধি করছে। শিলিগুড়ির সুনাম মানেই বাংলার সুনাম। তাই বাংলায়, বিশেষ করে শিলিগুড়িতে স্ট্রেংথলিফটারদের আরও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।”

শিলিগুড়ির ক্রীড়াঙ্গনে এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিভাকে অনুপ্রাণিত করবে, এমনটাই আশা ক্রীড়া মহলের।