নিজস্ব প্রতিবেদন:
সোনার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে গত কয়েক মাস ধরেই ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছিল শহরের বেশিরভাগ সোনার দোকান। বহু দোকান মালিক সারাদিন দোকানে বসে কার্যত “মাছি মারা” অবস্থা পার করছিলেন। তবে শনিবারের ধনতেরস সেই মলিনতা অনেকটাই মুছে দিল। ঐতিহ্য ও বিশ্বাস মেনে, বহু মানুষ এদিন সামান্য হলেও সোনা বা রূপা কেনার ঐতিহ্য পালন করেন।

শনিবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির বিভিন্ন সোনার দোকানে ভিড় জমতে শুরু করে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই সেই ভিড় আরও বাড়ে। নিউ সিনেমা রোডের শচীন্দ্র জুয়েলার্স-এর কর্ণধার স্বর্ণব্যবসায়ী সুজয় রায় জানান, ধনতেরস উপলক্ষে তাঁদের দোকানে সোনার কেনাকাটায় ১৫ শতাংশ ছাড় এবং রুপার কেনাকাটায় ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়। তার সঙ্গে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ উপহার প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
এদিন সোনার দাম ছিল ২২ ক্যারাটে ১,২৪,০০০ টাকা , এবং রুপার দাম প্রতি গ্রাম ২০০ টাকা। উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও সন্ধ্যা নামতেই দোকানে ভিড় উপচে পড়ে বলে জানান সুজয়বাবু। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দীপাবলির লক্ষ্মীপুজোর সময়ও ক্রেতাদের এমনই আগ্রহ দেখা যাবে।
হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, দীপাবলির দু’দিন আগে ধনতেরস পালিত হয়। ‘ধন’ মানে সম্পদ, আর ‘তেরস’ অর্থাৎ ত্রয়োদশী তিথি। এই দিনে ধন্বন্তরি দেবের পূজা করা হয়—যিনি চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদের দেবতা বলে পরিচিত। বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরসের দিনে সোনা, রূপা, পিতল বা নতুন কোনো জিনিস কেনা সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। তাই বছরের এই বিশেষ দিনে সোনা-রুপার দোকানগুলোতে মানুষের এমন আগ্রহ চোখে পড়ে।
এবছরও সেই প্রাচীন রীতিই যেন নতুন করে প্রেরণা দিল ব্যবসায়ীদের। সোনার দামের উর্ধ্বগতি সত্ত্বেও ধনতেরসের শুভক্ষণে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় প্রমাণ করল—ঐতিহ্য, বিশ্বাস আর আশার রঙে দীপাবলির আগমন ইতিমধ্যেই ঝলমল করছে শিলিগুড়ির স্বর্ণবাজারে।

