নিজস্ব প্রতিবেদন:
ভয়াবহ ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট থানার অন্তর্গত কলাবাড়ি বান্ধ লাইন এলাকায়। বাড়ির বারান্দা থেকে পাঁচ বছরের এক শিশু কন্যাকে তুলে নিয়ে যায় চিতাবাঘ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুটির নাম প্রতিকা ওরাঁও, বয়স ৫ বছর । সে কলাবাড়ি বান্ধ লাইনের বাসিন্দা রোমান ওরাঁওয়ের কন্যা। স্থানীয়দের দাবি, বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ হঠাৎ দুটি চিতাবাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সেই সময় বাড়ির উঠোনে/বারান্দায় থাকা শিশুটিকে আচমকাই তুলে নিয়ে যায় একটি চিতাবাঘ।
পরিবারের লোকজন শিশুটির চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। সেই সময় আশেপাশে নদীতে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। সকলে মিলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে চিতাবাঘটি শিশুটিকে ফেলে রেখে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়। দ্রুত আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডায়না ও বিন্নাগুড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলাবাড়ি বান্ধ লাইন ও সংলগ্ন এলাকায় বনদপ্তরের তরফে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় খাঁচা পাতা হয়েছে এবং বনকর্মীদের টহলদারিও জোরদার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডায়না ও গয়েরকাটা ফরেস্ট সংলগ্ন নাথুয়া-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায়শই চিতাবাঘ ও হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বারংবার এমন ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। লাগাতার টহলদারি ও আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও খাঁচা পাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে আহত শিশুটির চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

