নিজস্ব প্রতিবেদন :
সংবাদমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতা আর এক সমাজসেবীর মানবিক উদ্যোগ—এই দুইয়ের মিলিত প্রয়াসে অবশেষে শুরু হল নয় মাসের শিশু কন্যা রিদ্ধি দাসের হার্ট অপারেশনের প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌতম গোস্বামীর সক্রিয় উদ্যোগে রিদ্ধিকে এম্বুলেন্সে করে কলকাতার নারায়না হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজ্য সরকারের শিশু সাথী প্রকল্পের আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হবে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিনা খরচে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়।কয়েকদিন আগে রিদ্ধির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ধরা পড়ে। আর্থিকভাবে চরম দুরবস্থায় থাকা পরিবারটি চিকিৎসার আশায় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে গেলে সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করা হয় এবং জানানো হয়,
সেই অর্থের ব্যবস্থা হলে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করা সম্ভব। দিন আনা দিন খাওয়া এই পরিবারের পক্ষে বিপুল অর্থ জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই নার্সিংহোম থেকে রাজ্য সরকারের শিশু সাথী প্রকল্প সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।
পরিস্থিতির চাপে দিশেহারা পরিবারটি শক্তিগড় এলাকার টোটোচালক মুনমুন সরকারের দ্বারস্থ হন। তিনি বিষয়টি সংবাদমাধ্যম “খবরের ঘন্টা”-কে জানান। এরপর খবরের ঘন্টার সম্পাদক শিলিগুড়ির নবগ্রাম এলাকায় উইনার্স ক্লাব সংলগ্ন রিদ্ধিদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। মানবিক আবেদন জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সাড়া মেলে।
এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন সমাজসেবী গৌতম গোস্বামী। তিনি দ্রুত শিশু সাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন। তাঁর তৎপরতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে রিদ্ধি, তার মা ও দিদিমা মামনী মন্ডলকে নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি অ্যাম্বুলেন্স কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়।
এদিন রিদ্ধির দিদিমা মামনী মন্ডল সংবাদমাধ্যম খবরের ঘন্টা এবং গৌতম গোস্বামীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টোটোচালক মুনমুন সরকারও শিশুটির দ্রুত আরোগ্য কামনা করে এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত শিলিগুড়িতে নতুন করে মানবিকতার বার্তা দিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

