নিজস্ব প্রতিবেদন:
শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া শালবাড়িতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো প্রাক বড়দিনের বিশেষ অনুষ্ঠান। বেথেল চার্চ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বড়দিনের আসল তাৎপর্য ও প্রভু যিশুখ্রিস্টের জীবনদর্শন তুলে ধরা হয় নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব সুভাষ স্যামুয়েল এবং ডিরেক্টর স্বদীপ্ত স্যামুয়েল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন পিঙ্কি স্যামুয়েল। এদিন প্রভু যিশুখ্রিস্টের জন্মকথা অবলম্বনে নাটক পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি শিল্পীদের সংগীত, নৃত্য ও আলোচনা মিলিয়ে অনুষ্ঠানের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও ভাবনাময়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা নাটকে বর্তমান ডিজিটাল যুগের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।তাতে বার্তা দেওয়া হয়, আজ আমরা সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিভিশনের অতিরিক্ত নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছি, যার ফলে পরম ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মিক সংযোগ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছি। নাটকের মধ্য দিয়ে এই বিষয়টিই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব সুভাষ স্যামুয়েল বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে যিশুখ্রিস্টের জীবনের নানা দিক, ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা এবং সৎ সঙ্গের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
তিনি বাইবেলের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন—
“আলো অন্ধকারে জ্বলছে, আর অন্ধকার তাকে গ্রহণ করতে পারেনি” (যোহন ১:৫)।
এছাড়াও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যিশুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী—
“আমি পৃথিবীর আলো; যে আমাকে অনুসরণ করবে, সে কখনো অন্ধকারে চলবে না” (যোহন ৮:১২)।
ভালবাসা ও মানবতার বার্তা তুলে ধরে তিনি বলেন,
“তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে” (মথি ২২:৩৯)—এই শিক্ষাই বড়দিনের মূল প্রেরণা।
সুভাষ স্যামুয়েল বলেন, বড়দিন মানে শুধু কেক কাটা বা বাহ্যিক আনন্দে মেতে ওঠা নয়, বড়দিন মানে নিজের অন্তরে এক আলোর জাগরণ ঘটানো, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধকে নতুন করে আবিষ্কার করা।
এদিনের নাটকে অংশগ্রহণ করেন সঞ্জয় ওরাঁও, সোমা ওরাঁও, শিপল ওরাঁও, ক্বেন্টক কোচ, মেঘা এবং বি দাংস্রি। তাঁদের অভিনয় ও উপস্থাপনায় দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া পড়ে। প্রাক বড়দিনের এই অনুষ্ঠান শালবাড়িতে এক আত্মিক ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।সেখানে সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্বদীপ্ত স্যামুয়েল,অনুষ্ঠান শেষে সকলকে নিয়ে নৈশকালীন প্রীতি ভোজের আয়োজন ছিলো

