“বাংলা কি হারিয়ে যাচ্ছে?” মাতৃভাষা দিবসে শিলিগুড়িতে ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কে সরব বুদ্ধিজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদন :
বাংলা ভাষা কি ধীরে ধীরে প্রান্তিক হয়ে পড়ছে? নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার বাড়তি ঝোঁক কি বাংলার চর্চাকে কমিয়ে দিচ্ছে? আবার অন্যদিকে—সব ভাষা ও উপভাষাকে সম্মান না দিলে কি আমাদের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এমনই নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও মতামত উঠে এলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়।

শুরু থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে গভীর চিন্তার বার্তা শোনা যায় বক্তাদের কণ্ঠে, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখে।শনিবার শিলিগুড়ির বিশ্বদীপ সিনেমা হল-এর বিপরীতে অবস্থিত শ্রমিক ভবনে আয়োজিত এই সভার উদ্যোগ নেয় অন্বেষণ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষার চর্চা বাড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি অন্য ভাষা বা বিভিন্ন উপভাষাকেও অবহেলা করা ঠিক নয়।

কোনো ভাষাই হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়, কারণ সমাজ গঠনে সব ভাষা ও উপভাষার নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে।
বক্তাদের মতে, ভারত-এর মতো বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশে বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা বজায় রাখতে হলে সব ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ সমানভাবে প্রয়োজন। সব ভাষা সমৃদ্ধ হলে সংস্কৃতিও সমৃদ্ধ হবে, আর সংস্কৃতির বিকাশই দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তুলবে।

এই আলোচনা সভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সন্দীপ সেনগুপ্ত, আইনজীবী সঞ্জীব চক্রবর্তী, ভ্রমণ গবেষক রাজ বসু, লেখক অশেষ দাস, নাট্য ব্যক্তিত্ব পার্থপ্রতিম মিত্র, অতুল চন্দ্র রায় ও পরাগ মিত্র সহ আরও অনেকে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে বক্তব্য রাখেন মেয়র গৌতম দেব।

উপস্থিত ছিলেন অজয় মজুমদার, কিরণ মজুমদার, বাসু দত্ত প্রমুখ।উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অলোক চক্রবর্তী, সভাপতি অন্বেষণ, জানান—রবিবারও সেখানে ভাষা বিষয়ক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার বিষয় রাখা হয়েছে—“ওরা আমাদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।”

রবিবারের সেই সভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লেখক সৌমেন নাগ, অভিজিৎ মজুমদার, দেবব্রত চাকি, সিদ্ধার্থ গুপ্ত সহ আরও বিশিষ্টজন। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের আলোচনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে।