সাধের বসন্ত

রিঙ্কু মিত্র ( পাল)
কল্যানী,নদীয়া
বলনা…ওরে সই,
সাধের বসন্ত আজ কই?
কোথায় গেল..মাদার, শিমুল,
আকন্দ, ভাঁটফল!
কোথায় গেল..সখের
পলাশ,বকুলফুল!
শূণ্যলতায় গাঁথব মালা,
পরব সখি গলে,
মনের সুখে তেঁতুল খাব
দোলনা দুলবো ডালে।
বলনা..ওরে সই,
সাধের বসন্ত আজ কই?
বাতাবি গাছে ছোট্ট কুঁড়ি,
ফুটবে কবে ফুল!
ঘন ঘন সুবাস নিতে
হবে নাতো ভূল।
গাছের পাতা মাখবে কবে,
উজ্জ্বল-শ্যামল বরণ রঙ!
টুনটুনি আর মৌটুসি ঘুরবে ডালে,
দেখাবে অনেক ঢঙ।
বলনা..ওরে সই,
সাধের বসন্ত আজ কই?
দিনের বেলা ডাকবে কোকিল
কুহু কুহু রবে।
মধু নিতে আসবে অলি,
আমের মঞ্জরীতে।
ফাগুন মাসে,লাগবে আগুন,
ফুটবে নানা ফুল।
ফুলের সাথে রঙিন হব,
“দোলযাত্রা, নেইতো বেশি দূর।
বলনা..ওরে সই,
সাধের বসন্ত আজ কই?
জোছনা রাতে দখিন হাওয়া,
সখি, তোর সাথে কব কথা।
মন যে হবে খুশি।
আর ঐ নিশীথ দাদা,
রাস্তার জমির আলে বসে,
বাজাবে বাঁশের বাঁশি।
বাঁশির সুর শুনে শুনে,
মন হবে উদাসী।
বলনা…ওরে সই,
সাধের বসন্ত আজ কই?
কংক্রীটে আজ ঢাকছে মাটি,
আধুনিক সব পরিপাটি।
ঘুরছে কেবল গাড়ির চাকা,
পাল্লা দিয়ে ছুটছে মানুষ।
বিলাসবহুল জীবনযাপন,
কারা যেন..পার্টিতে যায়,
নেশা করে,
নিত্যদিন ফূর্তি করে।
দোলে মাখে রাজনীতির রং,
ভক্তি ভালোবাসার নাই কোনো লেশ।
এ যেন আবেগের রঙিন দেশ!
কেবল…গগনচুম্বী কালো ধোঁয়া,
ইট পাথরের অট্টালিকা।
প্রশ্বাসে ধূলোবালি,একি সভ্যতার একফালি!
গাছের পাতাগুলি,
শুধুই ধূলোয় ভরা।
দেখেশুনে আমি ও মনমরা।
বলনা..ওরে সই,
সাধের বসন্ত আজ কই?


