একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার দাবিতে সরব শিলিগুড়ি — ৯৫ শতাংশ সংরক্ষণসহ একাধিক দাবিতে গর্জে উঠল বাংলা ও বাংলা ভাষা বাঁচাও কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদন :
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আবেগ, ভাষা শহিদদের স্মৃতি আর বাংলার অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার—এই তিনকে সামনে রেখেই শনিবার বাংলা ও বাংলা ভাষা বাঁচাও কমিটি-র উদ্যোগে শিলিগুড়িতে পালিত হলো একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অনুষ্ঠানে উঠে এলো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলা ভাষা ও বাঙালির অধিকার।

শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট এলাকার অটো স্ট্যান্ড সংলগ্ন কল্লোল সাংস্কৃতিক সংস্থা-র প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহিদ বেদীতে মাল্যদান করেন অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মী ধ্রুব সরকার, বিশিষ্ট আইনজীবী সঞ্জীব চক্রবর্তী এবং শিক্ষক আশীষ ঘোষ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এখনই সময় আরও শক্তভাবে আওয়াজ তোলার। তাঁদের দাবি—
১)পশ্চিমবঙ্গের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামফলকে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করতে হবে,
২)পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি চাকরির সব পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৩)রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে বাংলার ভূমিপুত্রদের জন্য ৯৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে।

৪)ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠন করতে হবে।
এবং ৫)নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন (NJP)-এ রেলের ডিআরএম অফিস স্থাপন করতে হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বক্তারা জানান, বাংলা ভাষার আওয়াজকে সমাজের সর্বস্তরে জোরদারভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এই আন্দোলন শুধু ভাষার জন্য নয়, বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকারের প্রশ্নেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লব ঘোষ, রাজা ইন্দ্র, ভাস্কর মজুমদার সহ আরও অনেকে। এদিন সবাই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রয়াত ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী চিকিৎসক ডাক্তার মুকুন্দ মজুমদার-কে। বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত বক্তারা একবাক্যে জানান—বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই লড়াই ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখেই নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষার প্রতি আরও সচেতন করে তোলার আহ্বান জানানো হয়।