শতবর্ষেও থামেনি কলম—বিশ্ব কবিতা দিবসে শিলিগুড়ির মুকুল দাসের প্রেরণার বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শতবর্ষে পা রেখেও সৃজনশীলতার আলো নিভতে দেননি শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া শরৎ পল্লীর বাসিন্দা মুকুল দাস। বয়স যেন তাঁর কাছে কেবল একটি সংখ্যা—প্রতিদিনই তিনি কলম হাতে তুলে নেন, লিখে চলেন নতুন নতুন কবিতা। তাঁর কথায়, “কবিতা বা লেখালেখি না করলে মন ভালো লাগে না।”

২১ মার্চ বিশ্ব কবিতা দিবসের প্রেক্ষাপটে তিনি নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে এক আন্তরিক বার্তা দেন—
“তোমরা কবিতা লেখো। শব্দ ও ভাষা দিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করো। মন ভালো থাকবে।”

১০০ বছর বয়সেও মুকুল দাসের কাছে লাঠির চেয়ে বড় ভরসা কবিতা। নিঃসঙ্গতার সঙ্গী, মানসিক শক্তির উৎস—সবকিছুই যেন তাঁর কাছে এই কবিতার মধ্যেই নিহিত।
মুকুল দাসের এই সাহিত্যচর্চার ধারা তাঁর পরিবারেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর পুত্র, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও কবি নির্মলেন্দু দাস ওরফে চন্দ্রচূড় বলেন, “কবিতা আমাকেও বাঁচিয়ে রেখেছে।

নতুন প্রজন্ম যদি অবসর সময়ে কবিতা লেখে, তাহলে তাদের সৃজনশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”উল্লেখ্য, ২১ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব কবিতা দিবস —কবিতার প্রতি ভালোবাসা, ভাষার সৌন্দর্য এবং মানবমনের গভীর অনুভূতিকে সম্মান জানানোর একটি বিশেষ দিন। এই দিনটি চালু করে ইউনেস্কো , যার উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা এবং সংরক্ষণকে উৎসাহিত করা।

কবিতা আসলে কেবল শব্দের বিন্যাস নয়; এটি অনুভূতির সূক্ষ্ম প্রকাশ। যেখানে ভাষা হয়ে ওঠে সুরেলা, ভাবনা পায় গভীরতা, আর সাধারণ কথাও পায় অসাধারণ রূপ। মানুষের আনন্দ, বেদনা, প্রেম কিংবা প্রতিবাদ—সবকিছুরই এক শিল্পিত বহিঃপ্রকাশ কবিতা।

“কবিতা” শব্দটিকে সৃজনশীলভাবে ভেঙে দেখলে—
ক মানে কল্পনা,
বি মানে বিশ্বাস বা বিবেক,
আর তা মানে তাৎপর্য।
অর্থাৎ, কবিতা হলো কল্পনার রঙে আঁকা বিশ্বাসের তাৎপর্যময় প্রকাশ।

এই বিশ্ব কবিতা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রযুক্তির দ্রুতগতির যুগেও শব্দের জাদু কখনও ম্লান হয় না। একটি ছোট কবিতাও মানুষের মন ছুঁয়ে যেতে পারে, বদলে দিতে পারে দৃষ্টিভঙ্গি, জাগিয়ে তুলতে পারে নতুন চেতনা। আর সেই চেতনার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে রয়েছেন শতবর্ষীয় মুকুল দাস, যাঁর কলম আজও এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে।