শিলিগুড়িতে পশু চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এলো পুরসভা

নিজস্ব প্রতিবেদন:
২১ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে দেশে চারটে গুরুত্বপূর্ণ শ্রম কোড কার্যকর হওয়ায় উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের চা ও সিনকোনা বাগানের শ্রমিকদের জীবনে এক নতুন যুগের সূচনা হল বলে মন্তব্য করলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।

এই প্রসঙ্গে রাজু বিস্তা বলেন,
“দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, বিশেষত চা ও সিনকোনা বাগানের শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। চারটি শ্রম কোড কার্যকর হওয়া শ্রমিকদের কল্যাণে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।”

তিনি জানান, কোড অন ওয়েজেস, অকুপেশনাল সেফটি হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড এবং কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি—এই চারটি আইন পুরনো ২৯টি শ্রম আইনকে আধুনিক ও সরল কাঠামোয় রূপ দিচ্ছে। ২০১৯ ও ২০২০ সালে সংসদে পাশ হলেও তা সেভাবে কার্যকর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজু বিস্তা আরও বলেন,
“এই নতুন শ্রম কোডগুলি ১৯৫১ সালের প্ল্যানটেশন লেবার অ্যাক্টের মতো পুরনো ও অচল আইনকে প্রতিস্থাপন করবে। ফলে শ্রমিকরা পাবেন ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবারসহ বাড়তি সামাজিক সুরক্ষা।”

তাঁর কথায়, নতুন আইনে সকল শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম আইনি মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ‘ন্যাশনাল ফ্লোর ওয়েজ’-এর মাধ্যমে কোনও কর্মীর আয় জীবিকোপযোগী ন্যূনতম মানের নিচে নামবে না। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে বেতন প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান,
“৪০ বছরের ঊর্ধ্বে শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা, পিএফ, ইএসআই ও বিমা-সহ সামাজিক সুরক্ষার পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মহিলা শ্রমিকদের জন্যও সমান সুযোগ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।”

গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মী, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক, পরিযায়ী কর্মী ও ক্ষুদ্র শিল্পের কর্মীদেরও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান সাংসদ। তাঁর মতে, একক নিবন্ধন ও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়ম সহজ হওয়ায় উত্তরবঙ্গের স্থানীয় শিল্পও উপকৃত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের পথ খুলবে।

“এই সিদ্ধান্ত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। চা বাগান থেকে শুরু করে নবগঠিত শিল্পক্ষেত্র—প্রতিটি শ্রমিকের অবদানকে এই আইন স্বীকৃতি দেয়,”— বলেন রাজু বিস্তা।

এই শ্রম সংস্কারকে দেশের শ্রমব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন বলেই অভিহিত করেছেন তিনি।