নিজস্ব প্রতিবেদন:
অনলাইন ব্যবসার দ্রুত বিস্তারের জেরে খুচরা ব্যবসায়ীরা আজ কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে। অন্যদিকে সরকারি চাকরির সুযোগ ক্রমশ কমে যাওয়ায় বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী ব্যবসার পথে পা রাখছেন। এর ফলে একদিকে যেমন খুচরা ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে তাঁদের সমস্যা ও অনিশ্চয়তা।

বাণিজ্যনগরী শিলিগুড়িতেও খুচরা ব্যবসায়ীদের এই সংকট স্পষ্ট। প্রতিদিনই শহরে নতুন নতুন শপিং মল ও বড় কর্পোরেট সংস্থার শোরুম গড়ে উঠছে। সন্ধ্যার পর সেবক মোড় থেকে শালুগাড়া পর্যন্ত সেবক রোডে চোখ রাখলেই চারদিকে আলো-ঝলমলে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সারি নজরে আসে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার শিলিগুড়ির সেবক রোড সংলগ্ন সৌভাগ্য প্যালেসে অনুষ্ঠিত বৃহত্তর শিলিগুড়ি খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির ১১তম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি পরিমল মিত্র। সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায়মুহুরি সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন। এরপর সেই প্রতিবেদনের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং একইসঙ্গে আয়-ব্যয়ের হিসাবও উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বাজার কমিটিকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে খুচরা ব্যবসায়ীদের একাধিক সমস্যা ও দাবি তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে বহুজাতিক সংস্থাগুলির সরাসরি খুচরা ব্যবসায় নামার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। এফডিআই চালুর মাধ্যমে বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলির সরাসরি খুচরা ব্যবসায় প্রবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার দাবি ওঠে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে ব্যবসা করে আসা ব্যবসায়ীদের স্থায়ীকরণ ও জমির অধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সম্মেলন থেকে আরও যে দাবিগুলি উঠে আসে তার মধ্যে রয়েছে— সরকারি জমি, রেল ও পিডব্লিউডি-র জমির ওপর থাকা বাজারগুলিতে ব্যবসায়ীদের স্থায়ীভাবে দোকান করার ব্যবস্থা, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ও ব্যবসা করা মানুষদের জমির অধিকার প্রদান, বিভিন্ন এলাকায় নতুন মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন। পাশাপাশি বাজারগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শৌচাগার নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুতায়ন এবং ক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও জোরালোভাবে দাবি করা হয়।
শহরের বিভিন্ন বাজার থেকে আসা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিল চোখে পড়ার মতো উৎসাহ ও উদ্দীপনা। খুচরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেই শেষ হয় এই ত্রিবার্ষিক সম্মেলন।

