নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরস্বতী পুজোর পবিত্র আবহে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মাধুর্যে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মুহূর্ত উপহার দিলেন বিশিষ্ট ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীত শিল্পী বুলবুল বোস। খবরের ঘন্টা-র আবেদনে সাড়া দিয়ে শিলিগুড়ির সুভাষ পল্লীস্থিত রাগিনী সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্র-এর কর্ণধার তথা সঙ্গীত শিক্ষিকা বুলবুল বোস রাগ বাগেশ্রীতে এক মনোমুগ্ধকর সরস্বতী বন্দনা পরিবেশন করেন।

রাগ বাগেশ্রী মূলত সন্ধ্যা ও রাত্রিকালীন রাগ। এর স্নিগ্ধতা, কোমল আবেগ ও ধ্যানমগ্ন ভাব বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনার সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই রাগে নিবদ্ধ সরস্বতী বন্দনা জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও অন্তর্লোকের শুদ্ধতার বার্তা বহন করে—যা সরস্বতী পুজোর মূল চেতনারই প্রতিফলন।
বুলবুল বোস দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সাধনার সঙ্গে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা করে আসছেন। তাঁর কণ্ঠে শাস্ত্রীয় সংগীত কেবল শ্রুতিমধুর নয়, বরং তা এক শুদ্ধ সংস্কৃতির ধারক। ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতের মাধ্যমে তিনি সমাজে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তাঁর সঙ্গীত সাধনার সুখ্যাতি ইতিমধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।রাগিনী সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে বহু ছেলেমেয়েকে তিনি ভারতীয় ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতে প্রশিক্ষিত করে তুলছেন। শুধু গান শেখানো নয়, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননশীলতা, শৃঙ্খলা ও গভীর ভাবনার দিকে উদ্বুদ্ধ করাই তাঁর সাধনার অন্যতম লক্ষ্য।
সরস্বতী পুজোর মতো বিদ্যার আরাধনার সময়ে এই ধরনের শুদ্ধ শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সাধনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। রাগ বাগেশ্রীতে নিবেদিত সরস্বতী বন্দনা তাই কেবল একটি সঙ্গীত পরিবেশনা নয়—এ এক সাংস্কৃতিক বার্তা, যেখানে সুরের মাধ্যমে বিদ্যা, সংস্কৃতি ও চেতনার মিলন ঘটে।
এই প্রয়াসে বুলবুল বোসকে সাধুবাদ জানায় খবরের ঘন্টা পরিবার—শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আলোয় সমাজকে আলোকিত করে চলার জন্য।

