জেল সুপার, আবার কবি-সুরকারও! মাতৃভাষা দিবসে গান-কবিতায় মন ছুঁয়ে গেলেন সন্তোষ সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদন : দিনের পর দিন দায়িত্বের চাপ, ব্যস্ত অফিসের কাজ—তার মাঝেও কেউ যদি খুঁজে নেন সৃজনশীলতার নতুন পথ, তবে তা সত্যিই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে ওঠে। এমনই এক অন্যরকম দিক তুলে ধরলেন শিলিগুড়ি বিশেষ সংশোধনাগার-এর সুপার সন্তোষ সরকার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে তিনি শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেই নন, বরং কবি ও সঙ্গীত স্রষ্টা হিসেবেও নিজের প্রতিভা প্রকাশ করলেন।

একসময় তিনি নিয়মিত নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কাজের চাপ বাড়ায় সেই চর্চা আর নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নাটকের ভেতরে থাকা গান ও সুরই আবার তাঁকে নতুন করে টানতে শুরু করে। সেখান থেকেই তাঁর মনে আসে নতুন ভাবনা—নিজেই যদি গান ও কবিতা লেখেন এবং তাতে সুর দেন, তাহলে কেমন হয়?
ভাবনা থেকেই শুরু।

এখন কাজের ফাঁকেই তিনি নিয়মিত কবিতা লেখেন, পাশাপাশি সঙ্গীতও রচনা করেন। শুধু লেখা নয়, নিজের সৃষ্ট গানেই নিজেই সুরারোপ করেন। তাঁর কথায়, কবিতা ও সঙ্গীত চর্চা তাঁকে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয় এবং মনকে সতেজ রাখে।

শনিবার একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খবরের ঘন্টা-র সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এদিন ভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে লেখা তাঁর কয়েকটি স্বরচিত কবিতা তিনি আবৃত্তি করেন ক্যামেরার সামনে। পাশাপাশি ভাষা দিবস নিয়ে নিজের লেখা একটি গানেও সুর দিয়ে প্রাণভরে পরিবেশন করেন।

এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ির কাওয়াখালি নিমতলা, যেখানে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে খবরের ঘন্টার মুখোমুখি হন তিনি। তাঁর কণ্ঠে কবিতা ও গান শুনে উপস্থিত অনেকেই বলেন, দায়িত্বের পাশাপাশি সৃজনশীলতার এমন চর্চা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।
মাতৃভাষা দিবসে প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে এক সৃজনশীল মানুষের পরিচয় তুলে ধরলেন সন্তোষ সরকার—আর সেই মুহূর্তই হয়ে উঠল দিনটির অন্যতম আকর্ষণ।